নিহত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তিনজন ১২ বছরের ছাত্রী ও দুই কিশোর, যাদের বয়স ১২ ও ১৩। একজনের দেহ সিঁড়ির ধাপে, বাকিদের লাইব্রেরিতে পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্কুলের কারও সঙ্গে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত শত্রুতার তথ্য এখনও মেলেনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় (Canada School Shooting) মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্তও। পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সি জেসি ভ্যান রুটসেলার নামে এক ট্রান্সজেন্ডার তরুণী (Transgender Woman) প্রথমে নিজের মা ও সৎভাইকে হত্যা করে, তারপর চার বছর আগে যে হাইস্কুলে পড়তেন, সেখানে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। পরে আত্মঘাতী হয় সে।
ঘটনাটি ঘটেছে প্যাসিফিক প্রদেশের ছোট্ট শহর টাম্বলার রিজে, যেখানে বাসিন্দা সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজারের কাছাকাছি। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর স্কুলে পৌঁছে ছয় জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় যাদের মধ্যে একজন ৩৯ বছর বয়সি শিক্ষিকা এবং পাঁচ পড়ুয়া।
নিহত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তিনজন ১২ বছরের ছাত্রী ও দুই কিশোর, যাদের বয়স ১২ ও ১৩। একজনের দেহ সিঁড়ির ধাপে, বাকিদের লাইব্রেরিতে পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্কুলের কারও সঙ্গে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত শত্রুতার তথ্য এখনও মেলেনি।
পুলিশ কমান্ডার ডোয়েন ম্যাকডোনাল্ড জানান, হামলার আগে রুটসেলার নিজের বাড়িতে ৩৯ বছর বয়সি মা এবং ১১ বছরের সৎভাইকে গুলি করে হত্যা করে। পরিবারের এক সদস্য প্রতিবেশীদের সতর্ক করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ স্কুলে পৌঁছয় প্রথম ফোনকলের দুই মিনিটের মধ্যেই। তখন অভিযুক্তের দিক থেকেও গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি লং-ব্যারেল বন্দুক ও পরিবর্তিত হ্যান্ডগান উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ছিল। অতীতে একাধিকবার পুলিশ তার বাড়িতে গিয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় তাকে আটকও করা হয়েছিল। তার আগের অস্ত্রের লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়েছিল; একসময় বাজেয়াপ্ত করা অস্ত্র পরে ফেরত দেওয়া হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।
এই হামলা ২০২০ সালের নোভা স্কোশিয়ার ঘটনার পর কানাডার সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেখানে এক বন্দুকধারীর তাণ্ডবে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনার পর আবেগঘন বার্তা দেন দেশের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, টাম্বলার রিজের বহু পরিবার প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ। সরকারি ভবনে সাত দিন অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। নির্ধারিত বিদেশ সফর বাতিল করেছেন তিনি।
কানাডায় কড়া অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। অতীতের গণহত্যার পর সরকার একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণও সম্প্রসারিত হয়েছে। তবু এই ঘটনা দেশকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল। স্থানীয় মেয়র ড্যারিল ক্রাকোভকা বলেন, ছোট্ট এই শহর এক বড় পরিবারের মতো - এই ক্ষতি অপূরণীয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহের বাকি সময় হাইস্কুল ও প্রাথমিক স্কুল বন্ধ থাকবে। শোকের আবহে গোটা কানাডা আজ স্তব্ধ।