ড্রাম ও গীতিবাদ্য নিয়ে বেথলেহেমের স্কাউট ট্রুপের বাজনা ও তাদের রঙিন ঝলমলে পোশাক মুখরিত সেই জমায়েতে অনুষঙ্গে ভরিয়ে দিল।

এবছর ফের বেজে উঠল নতুন জীবনের গান, নয়া স্পন্দনে।
শেষ আপডেট: 25 December 2025 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেথলেহেমের মঁজের স্কোয়ার ও তার লাগোয়া গলিগালা সন্ধ্যা থেকেই ভরে গেল মানুষে মানুষে। ড্রাম ও গীতিবাদ্য নিয়ে বেথলেহেমের স্কাউট ট্রুপের বাজনা ও তাদের রঙিন ঝলমলে পোশাক মুখরিত সেই জমায়েতে অনুষঙ্গে ভরিয়ে দিল। তাদের বাজানো ক্রিসমাস ক্যারোল এবং পরম্পরাগত প্যালেস্তিনীয় সুরে ভরল আকাশ-বাতাস। গাজাযুদ্ধের প্রায় দুবছর পর এমন করেই ফের মুখরিত হয়ে উঠল খ্রিস্টের জন্মস্থান শহর। অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের এই শহর গত দুবছর ধরে যুদ্ধবিমান ও গোলাগুলির আওয়াজে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। সেখানে এবছর ফের বেজে উঠল নতুন জীবনের গান, নয়া স্পন্দনে।
ক্রিসমাস ইভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এদিন ছিলেন প্যালেস্তাইন সহ বিস্তৃত এলাকার সর্বোচ্চ ক্যাথলিক যাজক ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক অফ জেরুজালেম, পিয়েরব্যাতিস্তা পিজ্জাবাল্লা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, এই বেথলেহেমে আমি এদিন চারিদিকে আলোর ঝরনা প্রত্যক্ষ করলাম। এটা কেবলমাত্র সূর্যালোক নয়, আপনাদের সকলের মুখের হাসির আলো।
বেথলেহেমে গত দুবছর ধরে গাজার প্যালেস্তিনীয়দের প্রতি সহমর্মিতাভাব পোষণ করে ক্রিসমাস উৎসব বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইজরায়েল যে দেশে প্রায় ৭০,০০০ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। শুধুমাত্র ইজরায়েল অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও বেথলেহেমেই দুবছরে হাজারখানেক গণহত্যা চালিয়েছে ইহুদি রাষ্ট্র। ইজরায়েলি সেনা ও উপনিবেশকারীরা প্যালেস্তিনীয় খ্রিস্টানদেরও রেয়াত করেনি।

গত অক্টোবরে সংঘর্ষ বিরতির পর থেকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সামান্য স্বস্তির শ্বাস পড়েছে। যদিও ইজরায়েল এখনও গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মযাজক বলেন, গাজায় এসে ধ্বংস দেখলাম নিজের চোখে। কিন্তু, তার মধ্যেও দেখলাম বাঁচার ও জীবনের প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণ। সবহারাদের মধ্যেও মানুষ আনন্দ ও উৎসবের মুহূর্তকে খুঁজে নিয়েছে। ওরা মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের ধ্বংসের মধ্যেও আবার জীবনের গান ফুটে উঠতে পারে। আমরা বেথলেহেমে আবার উৎসব করছি, এখানেই আবার নতুন করে সৃষ্টি গড়ে উঠবে।
ক্রিসমাস ইভ ও এদিন ক্রিসমাসে হাজার হাজার প্যালেস্তিনীয় ক্রিশ্চান ও বিদেশি উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন। পূর্ব জেরুজালেম থেকে আসা এক প্যালেস্তিনীয় খ্রিস্টান বললেন, আজকের পরিবেশে আনন্দ ও দুঃখ অর্ধেক মিশে আছে। আমরা আশা করি, যুদ্ধ একদিন থামবেই। হত্যার শেষ হবে। এই পবিত্র ভূমিতে ফের শান্তি নেমে আসবে। কিন্তু, বেথলেহেমকে ঘিরে ইজরায়েলি সেনার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থানীয় প্যালেস্তিনীয়রা সেখানে ঢুকতে পারেননি। বাড়ি থেকে সামান্য দূরে হওয়া সত্ত্বেও অসংখ্য চেকপোস্টে আটকে রেখে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের।

শুধু খ্রিস্ট জন্ম উৎসব নয়, এবছর থেকে ক্রিসমাসকে ঘিরেই খুলে গিয়েছে সব হোটেল-রেস্তরাঁর দরজা। বেথলেহেমের অর্থনীতি পুরোপুরি নির্ভরশীল পর্যটন ব্যবসার উপর। প্যালেস্তিনীয় হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জানান, যুদ্ধের বছরগুলিতে পর্যটন ব্যবসা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি জানান, গত দুদিন ধরে হোটেলের ঘরভাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ৮,০০০ লোক হলেন ইজরায়েলের প্যালেস্তিনীয় নাগরিক ও ২,০০০ বিদেশি পর্যটক, যাঁরা ক্রিসমাস উপলক্ষে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে এসেছেন।