মৃত্যুর গুজব ছড়াতেই ভিডিও পোস্ট করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ক্যাফেতে বসে কফি অর্ডার করার সেই ভিডিও ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 15 March 2026 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে যখন নানা মহলে জোর জল্পনা চলছে, তখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ভিডিয়োটির সত্যতা নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ক্যাফেতে বসে কফি অর্ডার করছেন তিনি। ভিডিওতে মজার ছলে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি কফির জন্য মরতেও রাজি!”, হিব্রু ভাষার একটি কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, তিনি কফি খুব পছন্দ করেন।
ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে দু’হাত তুলে ক্যামেরার সামনে আঙুলও দেখাতে দেখা যায়। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের এক সাংবাদিক বৈঠকের ফুটেজে নাকি নেতানিয়াহুর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গিয়েছে। অনেকেই বলেন, সেই ভিডিও নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি।
এই অভিযোগের জবাব দিতেই ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার আঙুল গুনতে চাও? এখানে দেখো…এখানে। দেখলে তো? খুব ভাল।”
אומרים שאני מה? צפו >> pic.twitter.com/ijHPkM3ZHZ
— Benjamin Netanyahu - בנימין נתניהו (@netanyahu) March 15, 2026
ভিডিওতে ইজরায়েলের নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তাও দেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, বাইরে গিয়ে কিছুটা খোলা বাতাস নিতে পারেন, তবে নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকতে হবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের ভালবাসা তাঁকে, সরকারকে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল এখনও কঠোর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে রবিবার ইরান প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তারা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী এখনও জীবিত থাকে, আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করব।” এদিকে ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধ ইতিমধ্যেই ১৬ দিনে পা দিয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়।
সেই হামলায় নিহত হন ইরানের ৮৬ বছর বয়সি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায়। অন্যদিকে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
খবরে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার অধিকাংশই ইরানের নাগরিক। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বাহিনী ইরান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর সঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনাও পাঠানো হয়েছে। ফলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।