পড়শি দেশের জেলে বন্দি লেখক শিল্পী, সাংবাদিক, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতাদের মুক্তির দাবিতে সম্প্রতি কলকাতায় একটি কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল। সমাজের নানা স্তরের মানুষ সেই কনভেনশনে হাজির হয়ে ধৃতদের মুক্তির দাবি জানান। কনভেনশনে গৃহীত এবং উপস্থিত সকলের স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাব কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশন অফিসে জমা করা হয়েছে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 15 March 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় লেখক, কবি, সাংবাদিক, তথ্যচিত্র নির্মাতা সহ সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত বহুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের অধিকাংশেরই জামিন মেলেনি। বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও পরিস্থিতি তেমন বদল ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক মহলের খবর।
পড়শি দেশের জেলে বন্দি লেখক শিল্পী, সাংবাদিক, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতাদের মুক্তির দাবিতে সম্প্রতি কলকাতায় একটি কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল। সমাজের নানা স্তরের মানুষ সেই কনভেনশনে হাজির হয়ে ধৃতদের মুক্তির দাবি জানান। কনভেনশনে গৃহীত এবং উপস্থিত সকলের স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাব কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশন অফিসে জমা করা হয়েছে।
কনভেনশনের প্রধান আয়োজক ভিরাসত আর্ট পাবলিকেশনের তরফে জানানো হয়েছে মহাবোধি সোসাইটি হলে আয়োজিত কনভেনশনে অবিলম্বে বিশিষ্ট কবি লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি করা হয়েছে। অশীতিপর এই কবির শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি ঘটছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য লেখক, সাংবাদিক চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রমুখের মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আর্জি জানানো হয়েছে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের কাছে। ধৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরও আছেন। তিনি অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর তাকে খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বাংলাদেশের পরিচিত সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা প্রমূখ। ভিরাসত আর্ট পাবলিকেশনের তরফে মুক্তির দাবি সম্মিলিত প্রস্তাবটি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে পৌঁছে দিতে কলকাতার উপ দূতাবাসের উপ হাই কমিশনারের প্রতি আর্জি জানানো হয়েছে।
কনভেনশনে বক্তাদের অনেকেই বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে আটক করে রেখেছে। শাহরিয়ার কবির বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার আল বদর, আল শামস সহ বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম সংগঠক হওয়ায় একাধিকবার তার ওপর হামলা হয়েছে। বস্তুত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিতির কারণেই বারে বারে তিনি আক্রান্ত হন। কনভেনশনে বক্তারা অনেকেই বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার এবার মুক্তিযুদ্ধকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিল। ফলে বর্তমান সরকারের উচিত হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।