চিনের তৈরি জে-১০সিই মডেলের ২০টি জেট বিমান কেনার জন্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে চুক্তি করতে চলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের এই যুদ্ধবিমান কেনা ভারতের চোখের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতের হাতে মার খেয়ে যে চিনা যুদ্ধবিমান জে-১০সিই মুখ থুবড়ে পড়েছিল, এবার বাংলাদেশ সেই একই যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে। চিনের তৈরি জে-১০সিই মডেলের ২০টি জেট বিমান কেনার জন্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে চুক্তি করতে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের সঙ্গে চিনের দহরম-মহরম অত্যন্ত বেড়েছে। খোদ ইউনুস কিছুদিন আগেই বেজিং সফর করে বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে রেখে এসেছিলেন। চিনা যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাও সেই সময়েই হয়েছিল বলে অনুমান। তবে যদি সত্যিই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়, তাহলে বাংলাদেশের এই যুদ্ধবিমান কেনা ভারতের চোখের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।
অপারেশন সিঁদুর চলার সময় চারদিনের মিনিযুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের কেনা বেশ কয়েকটি বিদেশি যুদ্ধবিমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। দাবির বিভিন্নতা অনুসারে অন্তত ১২-১৩টি পাক জেটকে গুলি করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল ভারত। তারমধ্যে রয়েছে, আমেরিকার তৈরি চার-পাঁচটি এফ-১৬, চিনের তৈরি জে-১০সিই।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের (OSINT) রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর জে-১০সিই অপারেশন সিঁদুরে ভালো রকম মার খেয়েছিল। ভেঙেও পড়েছিল কয়েকটি। এর কারণ হতে পারে পাইলটের ভুল অথবা চাপের কারণে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানি অস্ত্র ও সরঞ্জাম এই মিনিযুদ্ধে বেশ কয়েকটি ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল, রাডার ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং ভুল লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ।
যদিও পাকিস্তানের দাবি, ওদের চিনা অস্ত্র দারুণ কাজ দেখিয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে ওরা চরম মূল্য দিয়েছে। এই অপারেশন চিনের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির মান ও প্রযুক্তি কৌশল রফতানি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কিন্তু, এই ব্যর্থতার পরেও বাংলাদেশ জে-১০সিই কিনে ওদের যুদ্ধভাণ্ডার মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০টি এই স্তরের যুদ্ধবিমানের খরচ পড়বে ২.২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অবশ্যই তালিম, রক্ষণাবেক্ষণ-মেরামত এবং অন্যান্য খরচ ধরা রয়েছে।
এই জেট বিমান আকাশ থেকে আকাশপথে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে অব্যর্থ নিশানাভেদে সক্ষম। প্রতিটি জেট বিমানের মূল দাম ৬০ মিলিয়ন ডলার অথবা ২০টির দাম পড়বে ১.২ বিলিয়ন ডলার। বাকি ৮২০ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হচ্ছে প্রশিক্ষণ ও পরিবহণ খরচের জন্য। যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ হাতে পাবে ২০২৬-২৭ সাল নাগাদ। কেনার অর্থ দিতে সময় লাগবে আনুমানিক ১০ বছর।