গুলিতে চারজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। যদিও বাংলাদেশ সেনা ও প্রশাসন গুলি চালনার অভিযোগ নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অগ্নিগর্ভ
শেষ আপডেট: 28 September 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। সেখানকার খাগড়াছড়িতে এক আদিবাসী কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বিচার চেয়ে গত পাঁচদিন ধরে আন্দোলনে চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় আদিবাসীরা। রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। গুলিতে চারজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। যদিও বাংলাদেশ সেনা ও প্রশাসন গুলি চালনার অভিযোগ নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানায়নি।
খাগড়াছড়ির কিশোরীকে গণ ধর্ষণ করা হয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর। সেখানকার সিংহিনালা গ্রামে ক্লাস এইটের ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে স্থানীয় মারমা উপজাতি সম্প্রদায়ের অভিযোগ। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, প্রশাসন ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চাইছে। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। প্রতিবাদে জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে আন্দোলন চলছিল। বিক্ষোভকারীরা গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজার এলাকা অবরোধ করে রাখে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর প্রস্তাব মেনে রবিবার দুপুরে তারা আলোচনায় বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি চালাতে শুরু করে। আন্দোলনকারীরা প্রাণভয়ে পালালে বহিরাগত দুষ্ক্রিতীরা এসে স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের ঘরবাড়িতে আগুন দেয়।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরআরএজি)। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। সংগঠনের বক্তব্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেভাবে নিরীহ আদিবাসীদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন চালাচ্ছে, তার প্রতিবাদে ভারতের উচিত কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মহম্মদ ইউনুসের সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়া। আরআরএজি জানিয়েছে যে, নিরপরাধ আদিবাসী জনগণের এই হত্যাকাণ্ড আগামী সপ্তাহে জেনিভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬০তম অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।
আরআরএজি বলেছে, রবিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলের খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা এলাকায় বিনা প্ররোচণায় গুলি চালিয়ে কমপক্ষে চারজন আদিবাসী মানুষকে হত্যা করেছে। গুলিতে আহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। সংগঠনটির অভিযোগ, এরপর তারা অবৈধ মুসলিম বাসিন্দাদের আদিবাসী মানুষের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। নিহত আদিবাসী জনগণের অধিকাংশই মারমা/মোগ সম্প্রদায়ের সদস্য। সংগঠনটির অধিকর্তা সুহাস চাকমা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে অভিযোগ করেছেন, ‘ধর্ষকদের গ্রেফতার করার পরিবর্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আদিবাসী জনগণের প্রতিবাদকারীদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর বিনা প্ররোচণায় গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং এরপর অবৈধ মুসলিম বসতি স্থাপনকারীদের আদিবাসীদের বাড়িঘর পোড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ায় স্পষ্ট হয় যে, গোটা ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত।