বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান আবারও ভিত্তিহীন ও হাস্যকর অভিযোগ তুলছে। তাঁর কথায়, “আমরা পাকিস্তানের তরফ থেকে তোলা এই মিথ্যে অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করছি।

শেষ আপডেট: 1 February 2026 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের অশান্ত দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশ বালুচিস্তানে (Balochistan attack) দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টার আত্মঘাতী হানা ও সেনা-বিদ্রোহী সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪৫ (Balochistan violence 145 dead)। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে এটি জঙ্গিদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। রবিবার ১৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসলামাবাদ অভিযোগ তোলে যে এই ঘটনার পিছনে দিল্লির হাত আছে (Pakistan allegations against India)। তবে ভারত পাল্টা জবাব দিয়ে সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে (India rejects Pakistan claim)।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান আবারও ভিত্তিহীন ও হাস্যকর অভিযোগ তুলছে। তাঁর কথায়, “আমরা পাকিস্তানের তরফ থেকে তোলা এই মিথ্যে অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করছি। এগুলো তাদের নিজের ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরানোর পুরনো কৌশল।”
বিদেশ মন্ত্রকের পরামর্শ, 'পাকিস্তান (Pakistan) বরং তাদের নাগরিকদের বহুদিনের অভিযোগ ও সমস্যাগুলোর সমাধানে মন দিক। বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন ও সেনা অভিযানের অভিযোগ রয়েছে। হামলা বা অশান্তি হলেই ভারতের নাম টেনে 'ফালতু অভিযোগ' করা পাকিস্তানের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুচ বিদ্রোহীরা একযোগে প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায় (Balochistan militant attack)। লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষ, একটি হাই সিকিউরিটি জেল, পুলিশ স্টেশন এবং আধাসামরিক বাহিনীর শিবির। যদিও বালুচিস্তান ও পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে বালুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং পাকিস্তানি তালিবান নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এত বড় পরিসরে সমন্বিত আক্রমণ খুবই বিরল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বালুচিস্তানে মোট ১৩৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯২ জন মারা যায় শুধু শনিবারই।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি দাবি করেছিলেন, এই হামলার পিছনে ভারতের মদত রয়েছে (India Pakistan tensions)। তবে নয়াদিল্লি এই অভিযোগের কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। অতীতেও ভারত এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলার সময় কয়েকটি ব্যাঙ্কে লুটপাট চালানো হয়, একটি পুলিশ স্টেশন ও বহু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দাবি করেছেন, গত এক বছরে প্রায় ৭০০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। শনিবার ভোরে জঙ্গিরা রেললাইন ধ্বংস করায় পাকিস্তান রেলওয়ে বালুচিস্তান (Balochistan attack) থেকে দেশের অন্যান্য অংশে ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। হামলার লক্ষ্য ছিল পুলিশ, জেল, আধাসামরিক বাহিনী ও সাধারণ যাত্রী।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মোহাম্মদ কাকার জানান, প্রায় একই সময়ে প্রদেশজুড়ে হামলা শুরু হয়। কোয়েটায় পুলিশের একটি গাড়িতে গ্রেনেড হামলায় দুই পুলিশকর্মী নিহত হন। পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মাস্তুঙ জেলায় একটি জেলে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্ত করে দেয় জঙ্গিরা। নুশকি জেলায় আধাসামরিক বাহিনীর সদর দফতরে হামলার চেষ্টা হলেও তা প্রতিহত করা হয়।