নাইজেরিয়ায় বন্দুকবাজদের হামলায় কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রাম থেকে একাধিক মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা।

নাইজেরিয়া
শেষ আপডেট: 4 January 2026 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাইজেরিয়ার (Nigeria) উত্তরে রক্তক্ষয়ী হামলা। রবিবার সন্ধ্যায় নাইজার রাজ্যের (Niger State) কাসুওয়ান-দাজি (Kasuwan-Daji) গ্রামে হানা দেয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ৩০ জন গ্রামবাসীকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও চার্চ সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি কয়েক জনকে অপহরণও করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।
ঘটনাটি ঘটেছে বরগু স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকার (Borgu Local Government Area) অন্তর্গত কাসুওয়ান-দাজি গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, রবিবার সন্ধেয় হঠাৎ গ্রামে ঢুকে পড়ে বন্দুকধারীরা। প্রথমে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। তার পর একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। গ্রাম্য বাজারেও আগুন লাগানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় গোটা গ্রামে।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন (Wasiu Abiodun) জানান, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত। তবে তাঁর কথায়, “কিছু বাসিন্দার দাবি, মৃতের সংখ্যা ৩৭ পর্যন্ত হতে পারে। এখনও সব দেহ উদ্ধার হয়নি।” পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিকে কন্তাগোরা ডায়োসিসের (Kontagora Diocese) ক্যাথলিক চার্চের মুখপাত্র রেভারেন্ড ফাদার স্টিফেন কবিরাত (Rev Fr Stephen Kabirat) আরও ভয়াবহ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, হামলায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অপহৃতদের মধ্যে শিশুদেরও থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হামলাকারীরা নতুন নয়। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আশপাশের গ্রামগুলোয় নজরদারি চালাচ্ছিল তারা। সুযোগ বুঝেই রবিবার এই হামলা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব। আতঙ্ক এতটাই ছিল যে হামলার পরেও কেউ দেহ উদ্ধার করতে সাহস পাননি। ওই বাসিন্দার কথায়, “দেহগুলো এখনও পড়ে আছে। নিরাপত্তা না থাকলে আমরা কীভাবে সেগুলো আনতে যাব?”
নাইজেরিয়ায় (Nigeria) উত্তরাঞ্চলে এই ধরনের সশস্ত্র হামলা নতুন নয়। সাধারণত যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানেই হামলা চালায় তারা। বিস্তীর্ণ পরিত্যক্ত বনাঞ্চলে লুকিয়ে থাকে এই দুষ্কৃতীরা। কাবে জেলার (Kabe district) কাছে জাতীয় উদ্যান বনাঞ্চল (National Park Forest) এই ধরনের গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় বলে পরিচিত। হামলাকারীরাও সেখান থেকেই এসেছিল বলে সন্দেহ।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই হামলার স্থান পাপিরি (Papiri) গ্রামের কাছেই। গত নভেম্বর মাসে এখানকার একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০-র বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই নৃশংস হামলা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।