লড়াই শুরুর আগে অবশ্য নাইজেরিয়া ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ডিআর কঙ্গোর থেকে ১৯ ধাপ উপরে।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 18 November 2025 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচ হেরে কোনও কোচ আত্মসমালোচনা করেন। নিজের রণকৌশলের খুঁত মেনে নেন। কেউ কেউ রেগেমেগে নিজের খেলোয়াড়দেরই কালপ্রিট দেগে দেন। অনেকে রেফারিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করান!
নাইজেরিয়ার (Nigeria) কোচ কিন্তু এর কোনও পথেই হাঁটলেন না। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছতে ব্যর্থ আফ্রিকার এই দেশ। আর আফ্রিকান প্লে–অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হারার পর ক্ষুব্ধ কোচ এরিক শেল (Eric Chelle) সরাসরি অভিযোগ তুললেন—ডিআর কঙ্গো (DR Congo) নাকি ম্যাচ জিততে ‘জাদুটোনা’ করেছে!
রবিবার মরক্কোর (Morocco) রাবাতে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ফল। অতিরিক্ত সময়েও গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে–অফে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। তারপর শুরু অভিযোগের ঝড়। ম্যাচশেষে সাংবাদিক সম্মেলনে শেল বলে বসেন, ‘ওরা প্রতি মুহূর্তে তুকতাক করছিল। বারবার একই জিনিস। তাই আমি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম!’ তিনি ইশারায় দেখান, ডিআর কঙ্গোর একজন সদস্য নাকি বারবার হাত নেড়ে কিছু ছিটচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘ওটা জল কি অন্য কোনও জিনিস… জানি না।’
টানটান টাইব্রেকারে চারটি পেনাল্টি সেভ হয়, একটি বাইরে যায়। শেষ শটে ডিআর কঙ্গোর অধিনায়ক শঁসেল এমবেম্বা (Chancel Mbemba) প্রচণ্ড বৃষ্টি আর গ্যালারি থেকে ছোড়া জলভর্তি বোতল—সব সামলে গোল করেন। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে ফেরার আরেক ধাপ কাছে পৌঁছল কঙ্গো, যারা তখন জায়ার (Zaire) নামে খেলত!
লড়াই শুরুর আগে অবশ্য নাইজেরিয়া ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ডিআর কঙ্গোর থেকে ১৯ ধাপ উপরে। ১৯৯৪ থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুপার ইগলস (Super Eagles) শেষবার ব্যর্থ হয় ২০১৮–তে। এবারও ছিটকে গিয়ে দেশের ফুটবল মহলে ছড়িয়েছে তীব্র হতাশা। পরাজয়ের পর নাইজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (Nigeria Football Federation) প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়েছে। বিবৃতিতে লেখা—‘এটা আমাদের ফুটবলের জন্য গভীর দুঃখের মুহূর্ত। টানা দু’বার বিশ্বকাপ মিস করা মানসিকভাবে খুব কঠিন।’
দেশের প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু (Bola Tinubu) দলকে অনুরোধ করেছেন এই হার ভুলে সামনে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (AFCON 2024–25) প্রস্তুতিতে মন দিতে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই এক মাসব্যাপী মহাদেশীয় টুর্নামেন্টই এখন নাইজেরিয়ার আসন্ন বড় লক্ষ্য।
একদিকে ডিআর কঙ্গোর কাছে এই জয় ঐতিহাসিক। আর নাইজেরিয়া শিবিরে আছড়ে পড়ছে প্রশ্নের পর প্রশ্ন—নিপাট ফেভারিট হয়েও কেন বারবার ব্যর্থ? কোচের ‘জাদুটোনা’অভিযোগ কি আদৌ পাতে দেওয়ার যোগ্য? আফকনে ফের একবার হড়কে গেলে সমালোচনা কয়েক গুণ বাড়বে নিশ্চিত।