দুই ম্যাচের ফলাফল স্পষ্ট করে দিল—ইউরোপের মহাশক্তিধর দেশগুলি ছন্দে ফিরেছে। বিশ্বকাপের রাস্তা এবার পাকা।

জার্মানি
শেষ আপডেট: 18 November 2025 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাপটের সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) টিকিট নিশ্চিত করল জার্মানি (Germany) ও নেদারল্যান্ডস (Netherlands)। গ্রুপ–পর্বে শেষ রাতে গ্রুপ–এ–র শীর্ষে থেকে মূলপর্বে উঠল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের (Julian Nagelsmann) দল। ১৫ পয়েন্টে গ্রুপ–সেরা টিম তারাই। ব্রাতিস্লাভায় সেপ্টেম্বরে যারা জার্মানিকে হারিয়েছিল, সেই স্লোভাকিয়াকেই (Slovakia) এবার ঘরের মাঠে ৬-০ চূর্ণ করে ফেলল জার্মানরা। ১২ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্লোভাকিয়া এখন প্লে–অফে (Playoffs)।
শুরু থেকেই স্বচ্ছ, দ্রুত, পরিকল্পনাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে জার্মানি। ১৮ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন নিক ভোল্টেমাডে (Nick Woltemade)। শেষ তিন ম্যাচে তাঁর চতুর্থ গোল। এরপরই সার্জ গানাব্রি (Serge Gnabry) রিবাউন্ড থেকে বাড়ান ব্যবধান। ফ্লোরিয়ান ভির্তৎসের (Florian Wirtz) বানানো বল থেকে দু’বার গোল করেন লিরয় সানে (Leroy Sané)। প্রথমার্ধেই খেলা কার্যত শেষ।
বিরতির পর প্রতিরোধ কোথায়? স্লোভাকিয়া ডিফেন্স তখন হাঁকপাঁক করছে! সেই সুযোগে রিডলে বাকু (Ridle Baku) আরও একবার আঘাত হানেন। অ্যাসান ওউয়েদ্রাওগো (Assan Ouédraogo) জুড়ে দেন অন্তিম গোল। ১৯ বছর বয়সি ফুটবলারের এই গোল জার্মান জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সে অভিষেক–গোল হিসেবে নজির গড়ল।
জার্মানির লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—২১তম বিশ্বকাপে পা রেখে হারানো ঐতিহ্য ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনা। ২০১৪ সালের পর কোনও বড় ফাইনালে পৌঁছতে পারেনি তারা। নাগেলসম্যানও জানেন, ডিফেন্স থেকে অ্যাটাক—নিখুঁত ফুটবল ছাড়া তা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, গ্রুপ–জি–তে দাপট দেখাল নেদারল্যান্ডস। লিথুয়ানিয়াকে (Lithuania) ৪-০-তে উড়িয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ–সেরা হয়ে তারা নিশ্চিত করল ১২তম বিশ্বকাপ। চোট পাওয়া ক্লুইভার্টের বদলে দলে ফেরা তিজিয়ানি রাইনডার্স (Tijjani Reijnders) ১৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন। ৩০ মিনিটে শট পোস্টে লাগলেও লিথুয়ানিয়া শিবিরে আশঙ্কা ঘনিয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যদিও চার মিনিটে খেলা গুটিয়ে দেয় ডাচরা। ভিএআর–এ (VAR) হ্যান্ডবল ধরা পড়ায় পেলান্টি আর স্পট কিক থেকে গোল করে কডি গাকপো (Cody Gakpo) ব্যবধান বাড়ান। এরপর জাভি সিমন্স (Xavi Simons) দুরন্ত দৌড় ও শক্তিশালী শটে সেরে ফেলেন তৃতীয় গোল। কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন ডনিয়েল মালেন (Donyell Malen)—হাফওয়ে লাইন থেকে দৌড়ে গিয়ে নিখুঁত ফিনিশ।
দুই ম্যাচের ফলাফল স্পষ্ট করে দিল—ইউরোপের মহাশক্তিধর দেশগুলি ছন্দে ফিরেছে। বিশ্বকাপের রাস্তা এবার পাকা। জার্মানি কলার তুলল দাপটে। ডাচ বাহিনী দেখাল স্থিরতা। বাকিদের জন্য বার্তা একটাই—প্রস্তুত থাকতে হবে আরও কঠিন পরীক্ষার জন্য!