পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তিনদিন আগে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন ট্রাম্প। সেই বৈঠকের আগে থেকেই সেনাপ্রধান তথা পাকিস্তানের প্রথম ফিল্ড মার্শাল মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবি তোলেন।

মুনির ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 21 June 2025 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Pakistan Army Chief Field Marshal Asim Munir) আগেই দাবি তুলেছেন। এবার পাকিস্তান সরকারও (govt of Pakistan) দাবি তুলল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (US President Donald Trump) নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel peace prize) দেওয়া হোক। শাহবাজ শরিফের সরকার (Shehbaz Sharif Governmentমনে করে হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সংঘর্ষ বিরতিতে ট্রাম্প প্রশংসীয় ভূমিকা পালন করেছেন। এই সংঘর্ষ অনেক দূর গড়াতে পারত। কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদ প্রশাসন এক্সবার্তায় বলেছে, ট্রাম্পের দূরদর্শীতাই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারফলে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে। পাকিস্তান সরকার মনে করে এই কারণে, ২০২৬০-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম নোবল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালে শেষবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন বারাক ওবামা। তাঁকে ওই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়ায় নোবেল কমিটি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তিনদিন আগে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন ট্রাম্প। সেই বৈঠকের আগে থেকেই সেনাপ্রধান তথা পাকিস্তানের প্রথম ফিল্ড মার্শাল মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি সরকারকে প্রস্তাব দেন এই ব্যাপারে বিদেশে পাক দূতাবাসগুলি যেন উপযুক্ত প্রচারের ব্যবস্থা করে।
এখন পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন সময় নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনার সুত্রপাত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কত বড় বিচক্ষণ রাষ্ট্রপ্রধান।
পাকিস্তান সরকারের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, পাকিস্তান দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগচ্ছে। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পাশাপাশি দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে চিড় ধরাতে চাইছে। এই লক্ষ্যে তারা অনেকটা সফল। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতিতে নয়াদিল্লি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি মানেনি। অফিসার পর্যায়ে এই ব্যাপারে আপত্তি জানানোর পর চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর দাবিতে অবিচল। সেই দাবিতে সিলমোহর দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ট্রাম্প বলেছেন, আমি পাকিস্তানকে ভালবাসী।
পাক সরকার কাশ্মীর নিয়েও ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা বুঝেছেন।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতেও ভারতের অবস্থান পাকিস্তানের বিপরীত। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কাশ্মীর প্রশ্নে তারা কোনও তৃতীয়পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না। নয়াদিল্লি আরও স্পষ্ট করে বলেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল নেওয়াই কাশ্মীর সমস্যার একমাত্র সমাধান। ভারত সেই লক্ষ্যপূরণে এগচ্ছে।