মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজ খুবই বিরল। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস বা ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসের মত পরম্পরা আমেরিকার নেই। শেষবার ওয়াশিংটনে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ হয়েছিল ১৯৯১ সালে।

ট্রাম্প ও আসিম মুনির
শেষ আপডেট: 15 June 2025 10:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াশিংটনের সামরিক কুচকাওয়াজে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এই দাবি ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে শেষমেশ মুখ খুলল হোয়াইট হাউস। জানিয়ে দিল, খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ আধিকারিক সাফ জানিয়ে দিলেন, এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই। কোনও বিদেশি সেনাপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এই নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দু’দেশের কূটনীতিকমহলেই রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। অনেকেই মনে করছিলেন, এই ঘটনা ভারতীয় কূটনীতির পক্ষে বড় ধাক্কা। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ টুইটে সেকথা উল্লেখ করে পোস্টও করেন।
এদিকে শিব সেনার ‘সামনা’–র সম্পাদকীয়তে সরাসরি অভিযোগ করা হয়, 'ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার জন্যইএটা একটি সচেতন প্রচেষ্টা।'‘সামনা’ আরও দাবি করে, বিজেপি যেহেতু ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থক, তাই তারা এই ভুয়ো খবর সামনে আসার পরও যথাযথ প্রতিবাদ করেনি।
এদিকে এই ঘটনার ফলে চাপে পড়েছে পাকিস্তানও। কারণ আমেরিকায় আসিম মুনিরকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এই প্রচার তারাই চালায়। আসলে ভারতের উপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা। এর আগে পাকিস্তানের তরফে প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল আমেরিকা সফরে গিয়ে কোনও সিনিয়র মার্কিন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। আন্ডার সেক্রেটারির নীচের স্তরের কোনও আমলার সঙ্গেই কেবল তাঁদের সাক্ষাৎ হয়। সেই হতাশা ঢাকতেও পাকিস্তান মিথ্যা প্রচারে নেমেছিল বলে অনেকের মত।
এখন, হোয়াইট হাউসের সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় সেই প্রচারের মুখোশ খুলে গেছে, আর পাকিস্তানের কূটনীতিও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবারের সামরিক কুচকাওয়াজটি আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সামরিক প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ১৭৭৫ সালের ১৪ জুন গঠিত ইউএস আর্মির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়। ওই দিনটি মার্কিন স্বাধীনতারও প্রাক্কাল, যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল মার্কিন সেনা।
শুধু তাই নয়, এই দিনটি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তথা রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৭৯তম জন্মদিনও। তাই এই দিন বিশেষ। শনিবার দুপুরের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় হাজার হাজার সেনা, ট্যাঙ্ক, সেনা হেলিকপ্টার, প্যারাট্রুপার। আকাশে যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনীও হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজ খুবই বিরল। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস বা ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসের মত পরম্পরা আমেরিকার নেই। শেষবার ওয়াশিংটনে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সব মিলিয়ে, এবারের কুচকাওয়াজ যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি তাকে ঘিরে এই ভুয়ো খবর এবং তৎপর প্রতিক্রিয়াও নজর কাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।