এই মুহূর্তে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তপ্ত। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত জটিল আকার নিয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও তা যে পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এমনটা নয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তান ও পাক-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলায় (Pahalgam Attack) ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) বাতিল করে। এখন আফগানিস্তানও (Afghanistan) পাকিস্তানকে (Pakistan) 'জলে মারার' সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই মুহূর্তে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তপ্ত। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত জটিল আকার নিয়েছে। যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) ঘোষণা হলেও তা যে পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এমনটা নয়। এই আবহেই আফগানিস্তানের তালিবান সরকার সরাসরি জলযুদ্ধের পথে।
পাকিস্তানের দিকে যাওয়া নদীগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে কুনার নদীতে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন তালিবান সুপ্রিম লিডার মাওলানা হিবতুল্লাহ আখুন্দজাদা। জানান হয়েছে, দেশের ‘জল-অধিকার’ রক্ষার দাবিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষে (Afghanistan Pakistan War) শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনা শুরু হয়েছে যে - ভারতের পরে এখন আফগানিস্তানের পালা পাকিস্তানকে জল সরবরাহ বন্ধ করার। প্রসঙ্গত, ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুনার নদী (Kunar River) উৎপন্ন হয়েছে আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বের হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে। কুনার ও নানগরহার প্রদেশ পেরিয়ে নদীটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রবেশ করে এবং জালালাবাদের কাছে কাবুল নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। পাকিস্তানে এই নদী ‘চিতরাল নদী’ নামে পরিচিত।
কুনার ও কাবুল নদীর জল পাকিস্তানের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার মূল ভরসা। এই নদীগুলি সিন্ধুতে মিশে যায়, যা পাঞ্জাব প্রদেশ পর্যন্ত জল সরবরাহ করে। ফলে কুনারের উপর বাঁধ নির্মাণ হলে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা।
সম্প্রতি ডুরান্ড লাইনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই সিদ্ধান্ত আরও রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের বিতর্কিত সীমারেখাকে আফগানিস্তান কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। তালিবান ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘জল-সার্বভৌমত্ব’ প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে চাইছে। তারা দেশজুড়ে বাঁধ নির্মাণ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যাতে প্রতিবেশী দেশের উপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক জল-বণ্টন চুক্তি নেই। ইসলামাবাদ আগেই সতর্ক করেছিল যে, একতরফা জল নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলে জলসঙ্কট তৈরি করতে পারে।