খোলা স্টেডিয়ামে মধ্যবয়সী এক যুবককে দাঁড়ানোর সুযোগ না দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হল। এই হত্যাযজ্ঞের সময় গুলিবর্ষণ করে মাত্র ১৩ বছরের এক কিশোর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে সম্প্রতি এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী ছিল প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। খোলা স্টেডিয়ামে মধ্যবয়সী এক যুবককে দাঁড়ানোর সুযোগ না দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হল। এই হত্যাযজ্ঞের (Afghanistan execution) সময় গুলিবর্ষণ করে মাত্র ১৩ বছরের এক কিশোর (13-year-old shooter)। সেইসময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত জনতা উল্লাসে চিৎকার করলেও, ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দা এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাঙ্গল নামের ওই যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি ১০ মাস আগে খোস্তের আবদুল রহমান ও তার পরিবারের ১৩ জন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ৯ শিশু নিহত হয়, আর ওই ১৩ বছরের কিশোরটি সেই সময়ই বেঁচে যায়। মঙ্গলবার, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার (Afghanistan Taliban) তার হাতে মাঙ্গলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
আফগান সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মাঙ্গলকে গ্রেফতার করার পর তার বিচার শুরু হয়। প্রথমে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন, পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে এই রায়কে রায় চ্যালেঞ্জ করেন, কিন্তু শীর্ষ আদালতও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। ইসলামী আইনের নিয়ম অনুযায়ী নিহতদের পরিবার দোষীর প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। তবে আবদুল রহমানের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেই অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমোদন দেন।
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় বেঁচে থাকা কিশোরের হাতে। কার্যকর করার আগে তাকে ক্ষমা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিশোর তা প্রত্যাখ্যান করে। গুলির শব্দে পুরো স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে, আর যুবক মাঙ্গল রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি রিচার্ড বেনেট বলেন, “এটা মানবিক নয়, নিষ্ঠুর এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।” যদিও তালিবান সরকারের মুখপাত্র মোস্তাঘফির গোরবাজ বলেছেন, "সব কিছু আইন অনুযায়ী হয়েছে।"
২০২১ সালে আফগানিস্তান (Afghanistan) দখল করার পর থেকে তালিবান সরকার শরিয়া আইন চালু করেছে। এর পর থেকেই জনসমক্ষে শাস্তি, বেত্রাঘাত ও মৃত্যুদণ্ডের মতো কাণ্ড শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বারবার এসব বন্ধ করার আহ্বান জানালেও, তালিবান সরকার এখনও সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আফগানিস্তানে শিশুদের শৈশব ও মানবিক মর্যাদা বিপন্ন হওয়ার বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের উপর শাস্তি কার্যকর করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদ্বেগ বেড়েছে।