মাঝরাতে আফগানিস্তানের খুলম এলাকায় ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প। কেন্দ্রস্থল খুলমের পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে ২২ কিমি দূরে, গভীরতা প্রায় ২৮ কিমি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 November 2025 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানে ফের ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক দফতর (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে খুলম এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। কেন্দ্রস্থল ছিল খুলম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, উৎসস্থলের গভীরতা ছিল ২৮ কিলোমিটার। তবে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগেও কেঁপেছে আফগানিস্তান। গত সপ্তাহেই সেখানে আঘাত হানে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প। জাতীয় ভূকম্পন বিজ্ঞান কেন্দ্রের (NCS) তথ্য অনুযায়ী, সেই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা পরবর্তী আফটারশকের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। ২৯ অক্টোবর বিকেল ২টা ৪৩ মিনিটে সেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
তারও আগে, ২৪ অক্টোবর ভোরে আফগানিস্তানে আরও একবার ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেই কম্পনের উৎস ছিল মাটির ৮০ কিলোমিটার নিচে।
এর আগে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে, পাকিস্তান সীমান্তের কাছে, ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছিল ২২০০ জনেরও বেশি মানুষের।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরেও একইভাবে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়েছিল আফগানিস্তান। তার পর একাধিক আফটারশকে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৪০০০ জনের, দাবি করেছিল তালিবান সরকার।
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, আফগানিস্তান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। কারণ দেশটি অবস্থিত এমন এক ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে, যেখানে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেট একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
এই সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে বিপুল চাপ তৈরি হয়, ফাটল ধরে ভূত্বকে। বিশেষত হিন্দুকুশ পর্বতমালায় এই চাপের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একাংশ ম্যান্টলের গভীরে ঢুকে যায়। ফলে, ওই অঞ্চল প্রায়ই প্রবল ভূমিকম্পের মুখে পড়ে।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, হিন্দুকুশ-পামির অঞ্চল বিশ্বের কয়েকটি জায়গার মধ্যে একটি, যেখানে প্রায় ২০০ কিলোমিটার গভীরেও ভূমিকম্প হতে পারে।