ভূমিকম্প বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের প্রায় ধূলিসাৎ কুনার প্রদেশে ৩৬ ঘণ্টা পর যখন ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছয়, তখন ১৯ বছরের বিবি আয়শা ভেবেছিল এবার হয়তো প্রাণটা বাঁচবে।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২২০০ ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি।
শেষ আপডেট: 5 September 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূমিকম্প বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের প্রায় ধূলিসাৎ কুনার প্রদেশে ৩৬ ঘণ্টা পর যখন ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছয়, তখন ১৯ বছরের বিবি আয়শা ভেবেছিল এবার হয়তো প্রাণটা বাঁচবে। খাবার, জল ও চিকিৎসার সুযোগ পাবে। কিন্তু, সে যখন দেখে উদ্ধারকারী দলের সকলেই পুরুষ। তখনই তার নিয়তি যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিল। আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২২০০ ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। উদ্ধারের কাজ এখনও চললেও পুরুষপ্রধান দলের উপায় নেই অপরিচিত মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়া। তাই বহু মেয়ে, যুবতী ও মহিলা ধ্বংসস্তূপের ভিতর আটকে থাকলেও তাঁদের বের করা হচ্ছে না।
যাঁরা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাঁদের অনেকেই রক্তাক্ত হলেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কেবলমাত্র মৃত মহিলাদের পোশাক ধরে টেনে বের করছে উদ্ধারকারীরা। কারণ, তালিবান শাসনে অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে স্পর্শ করার অধিকার নেই অপরিচিত পুরুষদের। নিউইয়র্ক টাইমসকে আয়েশা জানিয়েছে, ওরা আমাদের এক কোণে বসিয়ে রেখে পুরো ভুলে গিয়েছে যে, আমরাও এদেশের মানুষ। এখানেই থাকি। আয়েশা জানায়, ঘায়েল পুরুষ ও শিশুদের উদ্ধারকারীরা শিবিরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রক্তাক্ত, জখম মহিলারা ভগ্নস্তূপের ভিতরে পড়ে থাকলেও তাঁদের স্পর্শ করছে না। কারও চিকিৎসা হচ্ছে না।
তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে অনাত্মীয় পুরুষ-মহিলার স্পর্শ বেআইনি। তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যার অর্থ কোনও পুরুষ উদ্ধারকারী আয়েশাকে ছোঁবে না। আয়েশার মতোই এরকমই শয়ে শয়ে মহিলা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মাজার ডেরার কাছে এক স্বেচ্ছাসেবক জানালেন, তিনি দেখেছেন যে মহিলারা এখনও বেঁচে আছেন, তাঁরা আটকেই রয়েছেন। কারণ আইন ভেঙে কেউই মহিলাদের চিকিৎসা করছে না।
৩৩ বছরের ওই স্বেচ্ছাসেবক জানান, পুরুষ ও বাচ্চাদের প্রথমে চিকিৎসা করা হচ্ছে। মহিলাদের এককোণে বসিয়ে রাখা হয়েছে। পুরুষ আত্মীয় না পাওয়া গেলে মৃত মহিলাদের পোশাক ধরে টেনে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ বিষয়ে তালিবান শাসিত প্রশাসনের স্বাস্থ্য বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও স্বীকার করে নেন, উদ্ধারকারী দলে মহিলার সংখ্যা খুবই নগণ্য। সরকার চেষ্টা করছে আরও মহিলা ডাক্তার ও নার্স পাঠানোর। কিন্তু বাস্তব হল, আয়েশার গ্রামে ভূমিকম্পের চারদিন পরেও কোনও মহিলা উদ্ধার কর্মী কিংবা চিকিৎসক পৌঁছননি।