এই রোডম্যাপের লক্ষ্য হল বেসরকারি শিল্পকে উৎসাহিত করা, যাতে তারা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উৎপাদন লাইন গড়ে তুলে সেনাবাহিনীর চাহিদা পূরণ করতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 September 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১৫ বছরে (15 years Plan) ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে (Indian Army) আধুনিকতম করে তুলতে এক দূরদর্শি পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt)।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে।
সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত প্রযুক্তি
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনী ৫০ হাজার ট্যাঙ্ক-মাউন্টেড অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, ৭০০টিরও বেশি রোবোটিক কাউন্টার-আইইডি সিস্টেম এবং ৬ লক্ষ আর্টিলারি রাউন্ড সংগ্রহ করবে। এছাড়া, একাধিক আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (UAS) যুক্ত করা হবে। এই পদক্ষেপগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা এবং দ্রুত অপারেশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
নৌবাহিনীর জন্য নতুন যুদ্ধজাহাজ
নৌবাহিনীর (Indian Navy) জন্য পরিকল্পনা আরও বিশাল। এতে আরও একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই তার প্রথম দেশীয় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রান্ত ব্যবহার করছে। এছাড়াও, ১০টি পরবর্তী প্রজন্মের ফ্রিগেট, ৭টি উন্নত করভেট এবং ৪টি ল্যান্ডিং ডক প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ থেকে ভারী বিমান উৎক্ষেপণের জন্য দুটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম (Electromagnetic Aircraft Launch Systems) এবং যুদ্ধজাহাজের জন্য পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করা হবে। নৌবাহিনী ১০০টি নেক্সট জেনারেশন ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্র্যাফটও সংগ্রহ করবে, যা দ্রুতগতির নৌকা আটকাতে এবং সমুদ্রের দিক থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলা প্রতিরোধে সক্ষম। ১৫ বছরের এই রোডম্যাপে ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ১৫০টি টর্পেডো এবং সাবমেরিনের জন্য লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আকাশ সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি
বিমান বাহিনীর জন্য রয়েছে আরও উন্নত পরিকল্পনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত নীল-নকশায় ৭৫টি হাই-অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট, ১৫০টি স্টিলথ বোমারু ড্রোন, শত শত নির্ভুল-গাইডেড যুদ্ধাস্ত্র এবং ১০০টির বেশি রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম
এই পরিকল্পনায় সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এতে স্যাটেলাইটের সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার হার্ডেনিং এবং লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডারের মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে হাইপারসোনিক অস্ত্রের গুরুত্ব উপলব্ধি করে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী হাই-স্পিড স্ট্রাইকের জন্য কমপক্ষে ৫০০টি হাইপারসোনিক মিসাইল সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে, শত্রুর হাইপারসোনিক অস্ত্র শনাক্ত করার জন্য ডিটেকশন সিস্টেমও সংগ্রহ করা হবে।
ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস (Directed Energy Weapons) নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। এটি এমন এক উন্নত প্রযুক্তি, যা প্রথাগত গোলাবারুদের পরিবর্তে উচ্চ-শক্তির লেজার বা মাইক্রোওয়েভের মতো কেন্দ্রীভূত শক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে।
এই পরিকল্পনার গুরুত্ব
এই ১৫ বছরের পরিকল্পনা এমন এক সময়ে এল যখন দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর সিঁদুর অভিযান হয়েছিল। ভারত পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তান হাজার হাজার ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে ভারতীয় সীমানায় আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই রোডম্যাপের লক্ষ্য হল বেসরকারি শিল্পকে উৎসাহিত করা, যাতে তারা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উৎপাদন লাইন গড়ে তুলে সেনাবাহিনীর চাহিদা পূরণ করতে পারে। এতে আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।