Accenture জানিয়েছে, এটি কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া বা ধাপে ধাপে ছাঁটাই নয়, বরং সংক্ষিপ্ত সময়ের (compressed timeline) মধ্যেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

আইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চার
শেষ আপডেট: 27 September 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের অন্যতম সেরা আইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চার (Accenture Plc)। এবার তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নতুন পন্থা নিয়েছে। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব কর্মীকে এআই–কেন্দ্রিক দক্ষতায় নতুন করে শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের দ্রুত বিদায় জানানো হবে (Accenture layoffs)।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তারপর এক কনফারেন্স কলে অ্যাকসেঞ্চারের সিইও জুলি সুইট বলেন, “আমরা নতুন করে সাজাচ্ছি কীভাবে কাজ এগোবে, কীভাবে কাজ পৌঁছে দেব, কাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করব এবং অ্যাকসেঞ্চারকে কীভাবে পরিচালনা করব। আমরা আমাদের কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করছি (Accenture restructuring)। কিন্তু যাঁদের ক্ষেত্রে রিস্কিলিং সম্ভব নয়, তাঁদের দ্রুত বিদায় জানাতে হচ্ছে।”
অ্যাকসেঞ্চার জানিয়েছে, এটি কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া বা ধাপে ধাপে ছাঁটাই নয়, বরং সংক্ষিপ্ত সময়ের (compressed timeline) মধ্যেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
কোম্পানির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অ্যাঞ্জি পার্ক জানিয়েছেন, এসব ছাঁটাই ইউটিলাইজেশন বা কাজের চাপের ঘাটতির কারণে নয়, বরং ভবিষ্যতের দক্ষতার চাহিদা মেলাতে না পারা কর্মীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত এক ধরনের ‘বিজনেস অপ্টিমাইজেশন প্রোগ্রাম’, যেখানে ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি কিছু ব্যবসা বিক্রি (divestiture) এবং পুনর্বিন্যাসও অন্তর্ভুক্ত।
৩১ অগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত অ্যাকসেঞ্চারের মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ ৭৯ হাজার যা তিন মাস আগের তুলনায় কম। জুনে কোম্পানি ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করে এবং সেটি চলবে আগামী নভেম্বরে শেষ হওয়া ফিসকাল ২০২৬-এর প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত।
এই ছয় মাসের পুনর্গঠন পরিকল্পনা (Restructuring Plan)–এর মধ্যে রয়েছে কর্মী ছাঁটাই ও সেভারেন্স, নির্বাচিত ব্যবসা বিক্রি এবং কর্মী পুনর্বিন্যাস।
জুন-অগস্ট ২০২৫ সময়কালে অ্যাকসেঞ্চার প্রায় ৬১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ দেখিয়েছে, যার মধ্যে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার কেবল সেভারেন্স খাতে গিয়েছে। সেপ্টেম্বর-নভেম্বর প্রান্তিকে আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে অনুমান। সব মিলিয়ে পুনর্গঠন খরচ দাঁড়াবে ৮৬৫ মিলিয়ন ডলার।
ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এই পুনর্গঠন অ্যাকসেঞ্চারকে ফিসকাল ২০২৬-এ ন্যূনতম ১০ বেসিস পয়েন্ট হারে অপারেটিং প্রফিট বাড়াতে সাহায্য করবে। যদিও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কোম্পানির বড় আকারের ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্টের চাহিদা অব্যাহত থাকলেও, গত দুই বছর ধরে ছোটখাটো ‘ডিসক্রিশনারি ডিল’-এর ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে, এআই-কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কৌশলের মাধ্যমে অ্যাকসেঞ্চার নতুন করে দিক পাল্টাতে চাইছে, বলাই বাহুল্য।