চিনের এই ১০১ বছর বয়সি বৃদ্ধা যেন একাই ভেঙে দিয়েছেন সুস্থ জীবনের সব প্রচলিত নিয়ম। তবু অবাক করার মতো বিষয়, আজও তিনি দিব্য সুস্থ, এমনকী চোয়ালে সাজানো রয়েছে নিজস্ব দাঁত!

জিয়াং ইউয়েকিন (Jiang Yueqin)।
শেষ আপডেট: 24 January 2026 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত ২টো অবধি জেগে টিভি দেখা, মাঝরাতে স্ন্যাক্স খাওয়া। আধুনিক স্বাস্থ্যবিধির ভাষায় এগুলো প্রায় সবই ‘খারাপ অভ্যাস’। কিন্তু চিনের এই ১০১ বছর বয়সি বৃদ্ধা যেন একাই ভেঙে দিয়েছেন সুস্থ জীবনের সব প্রচলিত নিয়ম। তবু অবাক করার মতো বিষয়, আজও তিনি দিব্য সুস্থ, এমনকী চোয়ালে সাজানো রয়েছে নিজস্ব দাঁত! দক্ষিণ-পূর্ব চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের (Zhejiang Province) ওয়েনঝৌ (Wenzhou) শহরের বাসিন্দা জিয়াং ইউয়েকিন (Jiang Yueqin)। সাত সন্তানের জননী এই বৃদ্ধা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর মেয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে (South China Morning Post) জানিয়েছেন মায়ের দৈনন্দিন রুটিন।
পরিবারের সদস্যদের কথায়, জিয়াং প্রতিদিন রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত টিভি দেখেন। তারপর ঘুমোতে যান এবং যথারীতি দেরি করে সকাল ১০টার দিকে তাঁর ঘুম ভাঙে। উঠে প্রথমেই এক কাপ গাঢ় গ্রিন টি। মেয়ে ইয়াও সঙপিং (Yao Songping) জানান, এত দেরিতে ঘুমোলেও তাঁর মা খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন এবং গভীর, নিশ্চিন্ত ঘুম হয় তাঁর।
এই ‘উল্টো জীবনযাত্রা’ শুরু হয়েছিল প্রায় দু’বছর আগে। একবার পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে অস্ত্রোপচার করতে হয় জিয়াংকে। সেরে ওঠার জন্য পরিবার তাঁকে ঘরের কাজ বন্ধ করতে বলেন। দিনের বেলা কাজ কমে যাওয়ায় তিনি বেশি ঘুমোতে শুরু করেন, আর তার ফলেই রাত জাগার অভ্যাস তৈরি হয়। এখন তাঁর সেই রুটিন বেশ বদলে গিয়েছে। সকালে আলাদা করে ব্রেকফাস্ট নেই— সরাসরি ব্রাঞ্চ। সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যে রাতের খাবার, আর যদি খিদে পায়, রাত ন’টার দিকে আবার স্ন্যাক্স। সবচেয়ে প্রিয় খাবার ওয়েনঝৌয়ের স্থানীয় পেস্ট্রি ‘মাটিসং’ (Matisong)। এছাড়া বিস্কুট, মুখরোচক খাস্তা, শাকিমা আর পট্যাটো চিপস তাঁর পছন্দের তালিকায়।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, ১০১ বছর বয়সেও তাঁর কখনও দাঁতের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। মেয়ে জানান, তাঁর মা ধীরে ধীরে, আরাম করে সব খাবার চিবিয়ে খান— কোনও অসুবিধাই হয় না। তবে পরিবার মনে করে, দীর্ঘায়ুর আসল রহস্য লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। ভালো ঘুম, নিয়মিত গ্রিন টি— এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণ হল জিয়াংয়ের মানসিকতা। তিনি খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ। রাগ করেন না, মনে ক্ষোভ পুষে রাখেন না, ঝামেলা এড়িয়ে চলেন। নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতে ভালোবাসেন।
জিয়াং ইউয়েকিনের গল্প ছড়িয়ে পড়তেই অনলাইনে শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই বলছেন, শত নিয়ম মানার চেয়েও সুস্থ মন আর মানসিক প্রশান্তিই হয়তো দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।