আগামী ২৬ জানুয়ারি কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য নির্বাচিত কিছু পুলিশকর্মীকে দেওয়া হবে এই অত্যাধুনিক স্মার্ট গ্লাস, যাতে রয়েছে ফেসিয়াল রেকগনিশন ও থার্মাল ইমেজিং (facial recognition and thermal imaging) প্রযুক্তি।

জাতীয় স্তরের কোনও বড় অনুষ্ঠানে প্রথমবার ভিড় নজরদারিতে এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংবলিত চোখে পরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে রাজধানীতে। ছবি এআই প্রয়োগে করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 24 January 2026 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণতন্ত্র দিবস (Republic Day 2026) উপলক্ষে দিল্লিতে নিরাপত্তা আরও কড়া করতে এআই-চালিত স্মার্ট চশমা (AI-powered smart glasses) ব্যবহার করতে চলেছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। আগামী ২৬ জানুয়ারি কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য নির্বাচিত কিছু পুলিশকর্মীকে দেওয়া হবে এই অত্যাধুনিক স্মার্ট গ্লাস, যাতে রয়েছে ফেসিয়াল রেকগনিশন ও থার্মাল ইমেজিং (facial recognition and thermal imaging) প্রযুক্তি। জাতীয় স্তরের কোনও বড় অনুষ্ঠানে প্রথমবার ভিড় নজরদারিতে এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংবলিত চোখে পরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে রাজধানীতে।
কর্তব্যপথ সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন এক ডজনের বেশি পুলিশকর্মী পরবেন কালো রঙের এই ফ্লিপ-আপ লেন্সযুক্ত স্মার্ট চশমা। ভারতীয় স্টার্টআপ আজনালেন্স (AznaLens) তৈরি করেছে এই ডিভাইস। কার্যত এটি চলমান নজরদারি ইউনিটের মতো কাজ করবে— রিয়েল টাইমে মানুষের মুখ স্ক্যান করে তা মিলিয়ে দেখা হবে পুলিশের ডেটাবেসে থাকা অপরাধী, সন্দেহভাজন ও ঘোষিত পলাতকদের ছবির সঙ্গে। মিলের হার ৬০ শতাংশের বেশি হলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা যাবে পুলিশের স্মার্টফোনে। ফলে এখন থেকে আর দাঁড়িয়ে থাকা ফেস রেকগনিশন সিস্টেম ভ্যানের উপর নির্ভর করতে হবে না।
এই স্মার্ট গ্লাসে সংযুক্ত রয়েছে অটোমেটেড ফেসিয়াল রেকগনিশন সফটওয়্যার (AFRS), যা দিল্লি পুলিশ ২০১৮ সাল থেকেই ব্যবহার করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি, যা আরও নিখুঁত শনাক্তকরণে সাহায্য করবে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এআই-ভিত্তিক ইমেজ আপডেট বা এজ প্রগ্রেশন। ধরা যাক, ডেটাবেসে কারও ছবি রয়েছে ১৯৯০ সালের। সিস্টেমটি সেই পুরনো ছবির ভিত্তিতেই এআই ব্যবহার করে বর্তমান বয়স অনুযায়ী মুখের একটি নতুন ভার্সন তৈরি করবে, যাতে শনাক্ত করা আরও নির্ভুল হয়। এছাড়া স্ক্যান করা মুখের চারপাশে সবুজ বক্স দেখা যাবে, সঙ্গে সম্ভাব্য বয়স ও উচ্চতার তথ্যও ভেসে উঠবে। লাইভ ফুটেজ ও ডেটাবেসের ছবির স্প্লিট-স্ক্রিন তুলনাও দেখতে পাবেন পুলিশকর্মীরা। ফলে চলাফেরা করতে করতেই ভিড়ের উপর নজরদারি সম্ভব হবে, যা দাঁড়িয়ে থাকা ক্যামেরা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠবে।
দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবেশ মাহলা বলেন, গতবছর আমরা বুঝতে পারি, একাধিক ক্যামেরা নজরদারির জন্য আলাদা ভ্যান বসানোর বদলে যদি পুলিশকর্মীরাই রিয়েল টাইমে ফেস রেকগনিশন ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে ভিড়ের মধ্যে কাজ করা অনেক সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, ধরা যাক আমাদের কাছে কারও ১৯৯০ সালের ছবি আছে। হেডসেটটি এআই ব্যবহার করে ৩৫ বছর পরের একটি আপডেটেড মুখের ছবি তৈরি করবে, যা বর্তমান চেহারার সঙ্গে অনেকটাই মিলবে।
এই স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের উদ্যোগ সাধারণতন্ত্র দিবসের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনারই অংশ। মোট ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী, ড্রোন নজরদারি এবং উন্নত এআই-ভিত্তিক ভিডিও অ্যানালিটিক্স ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে রাখা হবে। আজনালেন্স, যারা এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি বা XR প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ, তারা গত বছর থেকেই দিল্লি পুলিশের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে এই প্রযুক্তিকে হাতেকলমে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ভবিষ্যতে জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানে এটি ব্যক্তিনির্ভর, গতিশীল নজরদারির নতুন পথ দেখাবে। যদিও ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে গোপনীয়তা ও নির্ভুলতা সংক্রান্ত বিতর্ক রয়েছে, তবু পুলিশের মতে, এই এআই স্মার্ট চশমা ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তকরণে কার্যকারিতা অনেকটাই বাড়াতে পারে।