রাশিয়ার কামচাটকা উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে আলাস্কার অ্যালিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অস্থায়ীভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 September 2025 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ভোরে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার সেন্ট্রাল পাপুয়া প্রদেশ (Indonesia earthquake)। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬.১। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রবিন্দু ছিল নাবিরে শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং গভীরতা মাত্র ১০ কিলোমিটার।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার BMKG সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৬ এবং গভীরতা ২৪ কিলোমিটার। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর পরে একাধিক আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের "Ring of Fire"-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে।
এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাশিয়ার কামচাটকা উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এর ফলে আলাস্কার অ্যালিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অস্থায়ীভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে পরে ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার তা প্রত্যাহার করে নেয়।
USGS জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি কামচাটকার পেত্রোপাভলোভস্ক শহর থেকে প্রায় ৮০ মাইল পূর্বে আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে হাওয়াইয়ে সুনামির আশঙ্কা থাকলেও হনলুলুর প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার স্পষ্ট জানায়, হাওয়াই বা মার্কিন পশ্চিম উপকূলের কোথাও ঝুঁকি নেই।
সুনামি সাধারণত সমুদ্রতলের ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়। জলের বিশাল স্থানচ্যুতি থেকে উৎপন্ন ঢেউগুলো সমুদ্রপথে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর জলে ঢেউয়ের উচ্চতা কম হলেও গতি ঘণ্টায় ৫০০ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু উপকূলের অগভীর জলে পৌঁছলে ঢেউ ধীরগতি হয় এবং উচ্চতা বেড়ে যায়, অনেক সময় ১০০ ফুট পর্যন্তও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার ভৌগোলিক গঠন, উপসাগর, নদীর মোহনা বা প্রবাল প্রাচীর সুনামির আঘাতের মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
সাধারণ ঢেউয়ের সঙ্গে সুনামির বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী বাতাসে ঢেউ বড় হয় (৩–১১ ফুট উচ্চতা)। এদের গতি অপেক্ষাকৃত ধীরে এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হয়। তারা প্রতি কয়েক সেকেন্ডে উপকূলে পৌঁছায়।
অনেক সময় বড় কোনও ভূমিকম্পের পর প্রথমে সতর্কতা জারি করা হয় কারণ সঠিক তথ্য তখনও আসেনি বা ভবিষ্যৎ আফটারশকের ঝুঁকি নিরূপণ করা যায়নি। পরে যাবতীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে যদি প্রমাণ মিলে যে কোনো মারণাত্মক সুনামি সৃষ্টি হবে না, তখন সতর্কতাগুলো প্রত্যাহার করা হয়।