
হাহাকারের কান্না ভেসে আসছে পশুপতিনাথের আর্যঘাট থেকে।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে জেন জি (Gen Z) গণঅভ্যুত্থানে বিচ্ছিন্ন হিংসাত্মক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫১। এরমধ্যে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের এক মহিলাও রয়েছেন। তবে তার মধ্যেই শুক্রবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দেশ। প্রধানমন্ত্রী বাছাই সহ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনাও চলছে পাশাপাশি। এদিন বেশ কিছু বাজারহাট খুলেছে। সরকারি বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এমনকী যাঁরা বাইরে ছিলেন ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হওয়ায়, তাঁরাও দেশে ফিরছেন।
নেপাল পুলিশ এদিন জানিয়েছে, জেন জি আন্দোলনে মোট মৃতের সংখ্যা ৫১। পুলিশের যুগ্ম মুখপাত্র রমেশ থাপা জানান, তিনজন পুলিশকর্মী, একজন ভারতীয় নাগরিক ছাড়া বাকি মৃতরা নেপালি। মহারাজগঞ্জের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে ৩৬টি দেহ রাখা আছে। এদিনই ময়নাতদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। তারপর দেহগুলি পরিবার শনাক্ত করার পর তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
কাঠমান্ডুর অন্যান্য হাসপাতালে বাকিদের দেহ রয়েছে। সেনাবাহিনী কয়েকটি জেলায় এখনও কার্ফু ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে আগামী তিনদিনের জন্য। তার মধ্যেও ধীরে ধীরে জেগে উঠছে নেপাল। সরকারি যে ভবনগুলি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার পরিবর্তে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে সেগুলির কাজ চালু করা হচ্ছে। রবিবার থেকে শুরু হবে স্কুল-কলেজ। যদিও ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় অশান্তি এড়াতে উৎসবকালীন ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে। খুলবে ভাইফোঁটার পর।
অন্যদিকে, কাঠমান্ডুর অন্যতম ফল-সবজির বাজার কালিমাটিতে এদিন সকালে ৫০০ টন পণ্য সরবরাহ এসেছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনিক বাজারে সুবিধা হয়েছে। বাজারে প্রচুর ভিড়ও ছিল সারাদিন। বাজার কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এদিন খুব ভাল বিক্রিবাট্টা হয়েছে। শহরের আশপাশ এবং তরাই এলাকা থেকে পাইকাররা গাড়িতে করে মাল পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। একদিকে যখন জেগে উঠছে জীবন, তখন অন্যদিকে হাহাকারের কান্না ভেসে আসছে পশুপতিনাথের আর্যঘাট থেকে। তরতাজা ছেলেদের সেখানে শেষকৃত্যের কাজও শুরু হওয়ায় কান্নায় ভারী হয়ে গিয়েছে বাতাস।