নেপালে (Nepal) বেকারি, সরকারি কাজে দুর্নীতি, পাহাড়প্রমাণ স্বজনপোষণের সঙ্গেই জেন জি-র (Gen Z) মধ্যে ক্ষোভের আগুনের অন্যতম বারুদ ছিল নেপো কিডদের (Nepo Kids) বিলাসবহুল জীবনযাত্রা।

ক্ষোভের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল সমস্ত তরুণ সমাজের বুকে।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে (Nepal) বেকারি, সরকারি কাজে দুর্নীতি, পাহাড়প্রমাণ স্বজনপোষণের সঙ্গেই জেন জি-র (Gen Z) মধ্যে ক্ষোভের আগুনের অন্যতম বারুদ ছিল নেপো কিডদের (Nepo Kids) বিলাসবহুল জীবনযাত্রা। একদিকে কচিকাঁচা তরুণ সমাজ দিনের প্রতি মুহূর্তে প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিল। কাজের খোঁজে ভিটেমাটি ছেড়ে দেশত্যাগ করতে হচ্ছিল। পেটের দায়ে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছিল কিংবা হোটেল কর্মী বা কুলিকামিনের কাজ করতে হচ্ছিল। সেই সময় সরকারি আধিকারিক থেকে মন্ত্রীসান্ত্রীদের বেটাবেটিরা বিদেশে পড়াশোনা, বিদেশে বিলাসবহুল রিসর্টে প্রমোদ ভ্রমণ, দামি বাড়ি-গাড়ি, পোশাক, বিদেশি ফোন-পারফিউম, ব্যাগের সম্ভারে মোড়া জীবন কাটাচ্ছিল। সেই ক্ষোভের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল সমস্ত তরুণ সমাজের বুকে।
গণঅভ্যুত্থানের পর সেই নেপো কিডদের নিয়ে ভূরিভূরি সোশ্যাল মিডিয়া চলছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট এবং এক্সবার্তায় সেই ক্ষীরখাওয়া প্রজন্মের লাইফস্টাইলের ছবি ও খবর অনবরত সামনে আসছে। যার প্রতিটিতে হ্যাশট্যাগ থাকছে- #PoliticiansNepoBabyNepal, #NepoBabies ও #NepoKids। এই পোস্টগুলিতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে খেটেখাওয়া তরুণদের বয়সি নেতামন্ত্রী-আমলাদের ছেলেমেয়েরা বিলাসী জীবন কাটাচ্ছিল বছরের পর বছর ধরে। যার মধ্যে রয়েছে, বিলাসবহুল বিদেশি গাড়ি, দামি ডিজাইনার পোশাক, বিদেশের হোটেল-রেস্তরাঁ-রিসর্টে জন্মদিনের পার্টি অথবা নিছক প্রমোদভ্রমণ করছে তারা।
কিছু ছবিতে সাধারণ নেপালি যুবকদের নিত্যদিনের সংগ্রাম যেমন- বন্যা, বিদ্যুৎহীন শহর এবং দ্রব্যমূল বৃদ্ধির ছবি বৈপরীত্য হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একটি দৃষ্টান্ত হল, শৃঙ্খলা খটিওয়াড়া। ২৯ বছর বয়সি প্রাক্তন ‘মিস নেপাল’। শৃঙ্খলার বাবা হলেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধ খটিওয়াড়া। শৃঙ্খলার ছবিই বলে দিচ্ছে যে কীভাবে সমাজের উপরিস্তরে জীবনযাত্রা কাটাতেন তিনি। ভাইরাল পোস্টে দেখা গিয়েছে, বিদেশে তিনি বিলাসী ছুটি কাটাচ্ছেন, লাক্সারি করে বেড়াচ্ছেন। জনরোষে তাঁর পারিবারিক বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাতারাতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি কমে গিয়েছে।
আরেকজনের নাম শিবানা শ্রেষ্ঠ। একজন জনপ্রিয় গায়ক ‘ছিলেন’। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার পুত্রবধূ। তাঁর বাড়িও ছিল অত্যন্ত বিশাল বাংলো-খামারবাড়ি ধরনের। তাঁর ফ্যাশন একেবারে দামি অভিনেত্রীদেরও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে। তিনি এবং তাঁর স্বামী জয়বীর সিং দেউবা সোশ্যাল মিডিয়ায় টিটকারির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক শো কোটি টাকার বেশি।
স্মিতা দাহাল। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’র নাতনি। তাঁর হাতব্যাগের দামই কয়েক লক্ষ টাকার (অবশ্যই বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের)। অথচ উল্টোদিকে তাঁদের বয়সি ছেলেমেয়েরাই একটি চাকরির জন্য হাপিত্যেশ করে মরছে। সৌগত থাপা। আইনমন্ত্রী বিন্দুকুমার থাপার ছেলে। তাঁর একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, চারধারে কোটি কোটি টাকার সামগ্রীর মাঝখানে হাসিমুখে বসে আছেন। এইভাবে আর্থ-সামাজিক বৈপরীত্য ও বৈষম্যের কারণেই জেন জি প্রজন্ম সরকারে পতন ঘটিয়ে এঁদের অধিকাংশেরই সম্পত্তির উপর গায়ের ঝাল মিটিয়েছে।