মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র বোমাবর্ষণের সতর্কবার্তা পোস্ট করেছিলেন আল-শরীফ। পরে তার পূর্বলিখিত একটি বার্তাও প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি বিশ্ববাসীকে প্যালেস্তাইনের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

আল জাজিরার নিহত সাংবাদিকরা
শেষ আপডেট: 12 August 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজার যুদ্ধক্ষেত্রে (Gaza) ফের সাংবাদিক হত্যার (Journalist Killed) কালো ছায়া। ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হলেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার (Al Jazeera) পাঁচ সাংবাদিক। শনিবার (১০ আগস্ট) গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে এই হামলা চালায় ইজরায়েল বাহিনী (Israel)।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ ও মোহাম্মদ কুরাইকেহ, ক্যামেরাপার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মোয়ামেন আলিওয়া। হামলায় আরও দু'জন প্রাণ হারান, যাঁদের মধ্যে একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-খালিদি। আল জাজিরার দাবি— এটি ছিল সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পরিকল্পিত হামলা’।
মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র বোমাবর্ষণের সতর্কবার্তা পোস্ট করেছিলেন আল-শরীফ। পরে তার পূর্বলিখিত একটি বার্তাও প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি বিশ্ববাসীকে প্যালেস্তাইনের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

ইজরায়েলের দাবি ও পাল্টা অভিযোগ
ইজরায়েল সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানায়, আল-শরীফ হামাসের একটি ‘সন্ত্রাসী সেল’-এর প্রধান ছিলেন এবং রকেট হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে। সিপিজের আঞ্চলিক প্রধান সারা কুদাহর প্রশ্ন— “প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বলার অভ্যাস ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রবণতা।”
বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শোক প্রকাশ করে সাংবাদিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে উদ্বেগ জানান। প্যালেস্তাইন মিশন, ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং বহু মানবাধিকার সংস্থা এই হামলাকে ‘সাংবাদিকতার উপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।
সিপিজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইজরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে অন্তত ১৮৬ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কিছু সংস্থার হিসেবে এই সংখ্যা ২৩৭— যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনও সংঘাতে সাংবাদিক হত্যার সর্বোচ্চ উদাহরণ।
যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুরক্ষা
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সাংবাদিকরা অসামরিক নাগরিক। তাঁদের কখনও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা যায় না। কিন্তু গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে সেই সুরক্ষা বহুবার ভঙ্গ হয়েছে। ২০২২ সালেও পশ্চিম তীরে আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আখলেহকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে।
বর্তমান সংঘাতে গাজার সাধারণ মানুষ যেমন, তেমনই সাংবাদিকরাও দিন দিন চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। খাদ্য, জল, জ্বালানি ও তথ্য— সবকিছুই হয়ে উঠেছে অস্ত্রের মতো নিয়ন্ত্রিত। গাজার খবর বিশ্বে পৌঁছনোর দায় এখন মূলত স্থানীয় সাংবাদিকদের কাঁধেই, আর সেই কারণেই তাঁদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে প্রতিদিন।