আল-শরিফ এই হামলার ঠিক আগেই এক্স হ্যান্ডেলে গাজা সিটিতে তীব্র ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কথা জানিয়েছিলেন।

আল-শরিফ (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 11 August 2025 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজার আল-শিফা হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলা। নিহত হলেন আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন খ্যাতনামা প্রতিবেদক আনাস আল-শরিফ (২৮) এবং তাঁর সহকর্মী মহম্মদ কুরেইকেহ, ক্যামেরা পার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোআমেন আলিওয়া এবং মহম্মদ নুফাল। মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে ওই হামলায়।
আল জাজিরা দাবি করেছে, রবিবার দুপুরে হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি করা তাঁবুতে সরাসরি নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই ইসরায়েলি সেনা মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে, আল-শরিফকে টার্গেট করেই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, তিনি আসলে হামাসের একজন ‘সন্ত্রাসী’ এবং একটি সেল-এর প্রধান ছিলেন, ইসরায়েলের অসামরিক লোকজন ও সেনাদের উপর রকেট হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।
আল-শরিফ এই হামলার ঠিক আগেই এক্স হ্যান্ডেলে গাজা সিটিতে তীব্র ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কথা জানিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এক বার্তা পোস্ট হয়, লেখা হয়, ‘যদি এই কথাগুলো তোমরা পড়তে পারো, জেনে রেখো, ইসরায়েল আমাকে হত্যা করতে এবং আমার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে সফল হয়েছে।’
২২ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধের মধ্যে সাংবাদিকদের উপর হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলির হিসেব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্প্রচারের সময় সহকর্মীদের মৃত্যুসংবাদ দিতে গিয়ে কান্না সামলাতে পারেননি এক আল জাজিরার উপস্থাপক। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আল-শরিফ ছিলেন উত্তর গাজার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ, প্রতিদিনের পরিস্থিতি সরাসরি জানাতেন দর্শকদের।’
সংবাদপত্র কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, ‘সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দেওয়ার অভ্যাস ইসরায়েলের, কিন্তু কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না দেওয়া, এটি প্রেস স্বাধীনতার প্রতি গভীর অবজ্ঞা প্রকাশ করে। সাংবাদিকরা তো অসামরিক শ্রেণিতে পড়ে, তাঁদের টার্গেট করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’
ফিলিস্তিয়ান জার্নালিস্ট সিন্ডিকেট এই ঘটনাকে ‘রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েল ও আল জাজিরার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল আল জাজিরার সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। অফিসে অভিযান পর্যন্ত চালায়। অন্যদিকে, কাতার দীর্ঘদিন ধরে হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আশ্রয় দিয়েছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওই সংগঠনের পরোক্ষ আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।