নাইজিরিয়ার প্লেটু রাজ্যের কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ শ্রমিকের, গুরুতর জখম ২৭ জন। কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণের আশঙ্কা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 February 2026 22:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা খনির ভিতরে তখন স্বাভাবিক দিনের মতোই কাজ চলছিল। হঠাৎই বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বুধবার সকালে নাইজিরিয়া-র (Nigeria) প্লেটু রাজ্যে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (Coal Mine Explosion) এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ২৭ জন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, খনির ভিতরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্লেটু রাজ্যের বাশার জেলা মূলত দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানেই অবস্থিত বহু বছরের পুরোনো কয়লা খনি কাম্পানিন জ়রাক, যেখানে নিয়মিত শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। খনির আশপাশেই রয়েছে শ্রমিকদের বসতি। বুধবার সকালে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক খনির ভিতরে নেমে কাজ শুরু করেছিলেন। সব কিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ আচমকাই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ, আর আতঙ্কে শুরু হয় ছোটাছুটি।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য শ্রমিকরা। তাঁরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। একের পর এক শ্রমিককে খনির ভিতর থেকে বের করে আনা হয়। খনির শ্রমিক ইব্রাহিম দাত্তিজো সানি জানান, “আমরা কাছেই ছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দ শুনেই ছুটে যাই। চারপাশের দৃশ্য ছিল ভয়ঙ্কর—রক্তে ভেসে যাচ্ছিল সব।”
এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক আলহাজি আলিয়ু আদামু ইদ্রিস বলেন, “এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।” তিনি আরও জানান, ‘সলিড ইউনিট নাইজিরিয়া লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা খনিটি পরিচালনা করত, এবং তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খনির ভিতরে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে আগুন লাগার ফলেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এই প্রথম নয়—গত সেপ্টেম্বরেও উত্তর-পশ্চিম নাইজিরিয়ায় প্রবল বৃষ্টির জেরে খনিধসে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্লেটু অঞ্চলে অবৈধ খনির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।