আকাশের এই রহস্যময় শক্তি কি সত্যিই আমাদের গভীরতম অনুভূতিগুলোকে প্রভাবিত করে?

এআই দিয়ে বানানো ছবি
শেষ আপডেট: 31 August 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের প্রেম জীবন কি সত্যিই নক্ষত্রদের হাতে নিয়ন্ত্রিত? যুগে যুগে এই প্রশ্ন মানুষকে ভাবিয়েছে। আধুনিক সমাজেও এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। জ্যোতিষশাস্ত্র দাবি করে, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান আমাদের সম্পর্কের উত্থান-পতনের অন্যতম কারণ।
অনেকে জন্মছক দেখে প্রেম ও বিবাহের পূর্বাভাস খোঁজেন, আবার অনেকেই একে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু আকাশের এই রহস্যময় শক্তি কি সত্যিই আমাদের গভীরতম অনুভূতিগুলোকে প্রভাবিত করে?
প্রেমের ক্ষেত্রে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রাচীন বিশ্বাস
প্রাচীনকাল থেকেই মানব সমাজে জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে মানুষের ভাগ্য, চরিত্র ও জীবনের নানা ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রথা হাজার বছর ধরে প্রচলিত। মেসোপটেমিয়া, ভারত, চিন, মিশর, গ্রিস ও রোমান সাম্রাজ্যে জ্যোতিষচর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়।
জন্মের সময় মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান অনুযায়ী তৈরি হয় জন্মছক বা কোষ্ঠী (কুণ্ডলী)। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই জন্মছকই প্রেম জীবন, বিবাহ ও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সহায়ক।
সম্পর্কের উপর গ্রহের প্রভাব
জ্যোতিষীরা বিশ্বাস করেন, জন্মছকে গ্রহের অবস্থান শুভ বা অশুভ ফল বয়ে আনতে পারে।
পঞ্চম ভাবের অধিপতির সাথে সপ্তম ভাবের যোগ হলে প্রেম থেকে বিবাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়। আবার, শুক্র, রাহু বা শনি সপ্তম স্থানে অশুভ প্রভাবে থাকলে প্রেমঘটিত বিবাহের যোগ তৈরি হতে পারে।
সিনাস্ট্রি চার্ট: সম্পর্কের সামঞ্জস্য মাপার উপায়
‘সিনাস্ট্রি চার্ট’ হল দু’টি ব্যক্তির জন্মছকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়—গ্রহের অবস্থান তাদের মানসিক, শারীরিক ও আবেগিক সামঞ্জস্যকে কতটা প্রভাবিত করছে।
আধুনিক সমাজে প্রাসঙ্গিকতা ও বিতর্ক
আজও বহু মানুষ জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করে জীবন বদলানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা একে ‘ছদ্মবিজ্ঞান’ (Pseudoscience) বলে মনে করেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, একই জন্মছক বিশ্লেষণ করে ২৮ জন জ্যোতিষী ২৮ রকম মত দিয়েছেন।
তবুও মানুষের বিশ্বাস অটুট। অনিশ্চয়তার সময়ে অনেকে জ্যোতিষী বা রাশিফলে ভরসা করে মানসিক শান্তি খোঁজেন। ফলে অনেকের কাছে এটি বিজ্ঞানের চেয়ে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস হিসেবে টিকে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভবিষ্যৎ দিশা
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী শুনে মানুষ ইতিবাচকভাবে আচরণ করে, যাকে প্ল্যাসিবো এফেক্ট বলা হয়।
জ্যোতিষীরা দাবি করেন, সচেতন কর্ম ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ ভাগ্য পাল্টাতে পারে। বিজ্ঞানীরা যদিও বলেন, এটি নিশ্চিত ফল নয়, সম্ভাবনার ইঙ্গিত মাত্র।
তবে আজও বিয়ে, সন্তানের নামকরণ বা ব্যবসা শুরু করার আগে বহু মানুষ জ্যোতিষীর পরামর্শ নেন। তাই জ্যোতিষশাস্ত্রকে যুক্তির আলোকে গ্রহণ করা এবং অন্ধ বিশ্বাস থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)