Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

৭ সেপ্টেম্বর পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ: সতর্ক থাকতে হবে ৫ রাশির জাতকদের

জ্যোতিষীয় মানচিত্রে এ দিনের গ্রহণ ঘটবে কুম্ভ রাশিতে, পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্রে। কুম্ভে রাহু-চাঁদের যুগ্ম উপস্থিতিতে ‘গ্রহণ যোগ’, আবার সিংহ রাশিতে সূর্য-কেতুর যোগেও ‘গ্রহণ যোগ’ তৈরি হবে।

৭ সেপ্টেম্বর পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ: সতর্ক থাকতে হবে ৫ রাশির জাতকদের

এআই দিয়ে তৈরি ছবি

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 3 September 2025 16:09

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭ সেপ্টেম্বরের রাত। আকাশজোড়া চাঁদের গায়ে নামবে পৃথিবীর ছায়া। বছরের দ্বিতীয় এবং শেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশসহ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজ়িল্যান্ড, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপের কিছু অংশ ও অ্যান্টার্কটিকায়। কলকাতা, দিল্লি, চণ্ডীগড়, লখনউ, জয়পুর, মুম্বই, আহমেদাবাদ, পুনে, ভুবনেশ্বর, গুয়াহাটি, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, তিরুঅনন্তপুরম—দেশের নানা শহরের মানুষ প্রত্যক্ষ করবেন ‘ব্লাড মুন’-এর মায়া। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এই গ্রহণ পাঁচটি রাশির জীবনে এনে দিতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ; তাই সময়টা সামলাতে হবে খুব সচেতনভাবে।

চাঁদ ঢাকে কেন? সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ এক সরলরেখায় এলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপর—তখনই চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ চলাকালীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যালোককে ছেঁকে লাল আভা ফেলে চাঁদের গায়ে; সেই কারণে তাকে অনেক সময় ‘ব্লাড মুন’ও বলা হয়। এই গ্রহণ ভারতীয় সময়ে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫৮ মিনিটে শুরু হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ২৬ মিনিটে শেষ হবে—মোট প্রায় ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট। পূর্ণগ্রাস থাকবে রাত ১১টা ০১ মিনিট থেকে রাত ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। বাংলাদেশে শুরু রাত ৯টা ২৮ মিনিট, শেষ ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৫৫ মিনিট। খালি চোখেই দেখা যাবে; দূরবীন বা টেলিস্কোপে আরও স্পষ্ট।

গ্রহণের সঙ্গে মানা হয় সূতক কালের বিধিও। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে গ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে সূতক শুরু। অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর (ভারতীয় সময়) দুপুর ১টা ৫৭ মিনিট থেকে গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সূতক। অনেক পঞ্জিকায় এই শুরুর সময় দুপুর ১২টা ৫৭-ও ধরা হয়। শাস্ত্র মেনে এ সময়ে দেবমূর্তি স্পর্শ না করা, মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা, খাবার না খাওয়া—এইসব নিয়ম পালন করা হয়। অনেকেই খাবারে তুলসীপাতা দিয়ে রাখেন। গ্রহণ শেষ হলে স্নান, গৃহ-দেবালয় পরিষ্কার করে পুজো—এই রীতি প্রচলিত। গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষ সাবধানতা, ধারালো বস্তু ব্যবহার এড়ানো এবং অকারণে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জ্যোতিষীয় মানচিত্রে এ দিনের গ্রহণ ঘটবে কুম্ভ রাশিতে, পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্রে। কুম্ভে রাহু-চাঁদের যুগ্ম উপস্থিতিতে ‘গ্রহণ যোগ’, আবার সিংহ রাশিতে সূর্য-কেতুর যোগেও ‘গ্রহণ যোগ’ তৈরি হবে। এই দ্বৈত গ্রহণ যোগ দেশ-দুনিয়ার ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি কয়েকটি রাশির ব্যক্তিজীবনেও টালমাটাল তৈরি করতে পারে—এমনই মত জ্যোতিষীদের।

যে পাঁচ রাশিকে সবচেয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন জ্যোতিষীরা—বৃষ, মিথুন, সিংহ, তুলা ও কুম্ভ।
বৃষ রাশির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও অর্থ—দু’দিকেই চাপ বাড়তে পারে। পুরনো অসুস্থতা মাথাচাড়া দিতে পারে, খরচও বেড়ে যেতে পারে; ফলে মানসিক অস্থিরতা। কর্মক্ষেত্রেও উদ্বেগের সম্ভাবনা।

মিথুন রাশিতে সন্তানের বিষয়ক দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে, পারিবারিক টানাপোড়েন বাড়তে পারে, আবেগগত দূরত্ব তৈরি হতে পারে। কাজের চাপ একযোগে বাড়বে; তবু উর্ধ্বতনরা আপনার পরিশ্রমের কদর করতে পারেন।
সিংহ রাশিতে দাম্পত্য ও পরিবারের সমীকরণেই ঘূর্ণাবর্ত। সঙ্গীকে সময় দিতে না পারায় ভুল বোঝাবুঝি, ভাইবোনের সম্পর্কেও দূরত্ব—সব মিলিয়ে ধৈর্যই পাথেয়।

তুলা রাশিতে হঠাৎ ব্যয়বৃদ্ধি, কাজে বিলম্ব, একসঙ্গে বহু কাজ সামলানোর চাপ। ব্যবসায় বিশ্বাসভাজনদের উপর অতি নির্ভরতা ক্ষতির কারণ হতে পারে; পরিকল্পনা গোপন রাখাই বুদ্ধিমানের।
কুম্ভ রাশির উপরেই গ্রহণ যোগ পড়ছে—সতর্কতার মাত্রা তাই সর্বাধিক। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, শত্রুপক্ষের সক্রিয়তা, চাকরিক্ষেত্রে ওঠানামা—সবকিছুরই সম্ভাবনা। চারপাশে নজরদারি বাড়ান, ঝুঁকি কমান।

বিজ্ঞানের চোখে চন্দ্রগ্রহণ নিছক এক স্বাভাবিক মহাজাগতিক ঘটনা। পৃথিবীর ব্যাস চাঁদের তুলনায় অনেক বড় বলে তার ছায়াপথ অতিক্রম করতে চাঁদের বেশ সময় লাগে; তাই গ্রহণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই রাত তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও আকাশপ্রেমীদের কাছে দারুণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ।

গ্রহণকালে করণীয়-বর্জনীয়, জ্যোতিষশাস্ত্রের ভাষায়, মানসিক সাধনা ও ইষ্টমন্ত্র জপ করলে নাকি রাহু-কেতুর প্রতিকূলতা কমে। গ্রহণ শেষেই স্নান করে দান—খাদ্য, বস্ত্র, শস্য—একে অনেকে শুভ মানেন। পিতৃপক্ষের যোগ থাকায় তর্পণ ও নৈবেদ্যকেও বিশেষ ফলদায়ী ধরা হয়। অন্যদিকে সূতক ও গ্রহণ চলাকালীন খাওয়া-ঘুমানো, নতুন কাজের সূচনা, গর্ভবতীদের ধারালো বস্তু ব্যবহার—এসব বর্জনের পরামর্শই প্রচলিত।

এ বারের গ্রহণটি ভাদ্রপদ পূর্ণিমায়—সেই সঙ্গে পিতৃপক্ষের সূচনাও। পূর্বপুরুষদের স্মরণ, শান্তিপাঠ, দান-ধর্ম—সব মিলিয়ে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তাই আরও প্রবল। জ্যোতিষীরা বলছেন, পিতৃদোষ বা কালসর্গ দোষ থেকে মুক্তিতে এই দিনটি বিশেষ উপযোগী; মন্ত্রজপ, তর্পণ ও দান করলে কল্যাণ সাধিত হয়—এমন বিশ্বাস প্রচলিত।

সময়সূচি এক নজরে (ভারতীয় সময়): গ্রহণ শুরু ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯:৫৮। পূর্ণগ্রাস শুরু রাত ১১:০১ (কিছু পঞ্জিকায় ১১:০০)। সর্বোচ্চ গ্রহণ রাত ১১:৪২। পূর্ণগ্রাস শেষ রাত ১২:৫৩ (৮ সেপ্টেম্বর)—কিছু পঞ্জিকায় ১২:২২। গ্রহণ শেষ ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১:২৬। সূতক শুরু ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১:৫৭ (কিছু পঞ্জিকায় ১২:৫৭), সূতক শেষ গ্রহণ সমাপ্তির সঙ্গে। বাংলাদেশে গ্রহণ শুরু রাত ৯:২৮, শেষ রাত ২:৫৫ (৮ সেপ্টেম্বর)।

একদিকে বিজ্ঞান, অন্যদিকে বিশ্বাস—দুটোই এই রাতকে বিশেষ করে তোলে। আকাশ দেখুন, সাবধান থাকুন। পাঁচ রাশির জন্য সতর্কবার্তা থাকলেও, সংযম ও সচেতনতাই সব চ্যালেঞ্জ সামলানোর চাবিকাঠি।


```