সেপ্টেম্বরে রক্তাভ চন্দ্রগ্রহণ। বিজ্ঞান ও জ্যোতিষ—দুই দৃষ্টিকোণেই জানুন এর তাৎপর্য ও রাশিফল প্রভাব।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 September 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেপ্টেম্বর মাসের আকাশে দেখা গেছিল এক বিরল রক্তাভ চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন প্রকৃতির দুর্লভ খেলা, আবার জ্যোতিষীরা (Astrologists) মনে করছেন - এই গ্রহণ মানুষের জীবনে আনতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময় চাঁদ প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তামাটে-লাল আভায় ঝলমল করেছে, যা আকাশপ্রেমী ও গবেষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্র।
কীভাবে তৈরি হয় ‘ব্লাড মুন’
চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ায় এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে ঢেকে ফেলে। কিন্তু চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায় না—পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে ভেঙে চাঁদের গায়ে পৌঁছে দেয় লালচে আভা। এ কারণেই গ্রহণের সময় চাঁদ রক্তিম হয়ে ওঠে (Blood Moon)। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দৃশ্য খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ভারত ও বাংলায় দৃশ্যমানতা
এই গ্রহণ দেখা গেছে এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বহু জায়গা থেকে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫৮ মিনিটে শুরু হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ২৬ মিনিটে শেষ হয় আংশিক গ্রহণ। পূর্ণগ্রাস পর্ব স্থায়ী ছিল রাত ১১টা ১ মিনিট থেকে রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত। কলকাতা-সহ দেশের প্রায় সব শহর থেকেই লালাভ চাঁদ দেখা গেছে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের চোখে গ্রহণ
হিন্দু জ্যোতিষ মতে, চন্দ্রগ্রহণ কেবল জ্যোতির্বিদ্যার বিষয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক তাৎপর্যও রাখে। সূতককাল শুরু হয়েছিল দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে। এই সময়ে দেবমূর্তি স্পর্শ, রান্না বা গর্ভবতী মহিলাদের বাইরে যাওয়া নিষেধ ছিল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্ত্রজপ ও গ্রহণশেষে দানপুণ্য শুভ ফল আনে।
রাশিভেদে সম্ভাব্য প্রভাব
জ্যোতিষীরা বলছেন, এই গ্রহণ বিভিন্ন রাশির জন্য ভিন্ন ফল বয়ে এনেছে —
মেষ, মকর, ধনু, বৃশ্চিক, কুম্ভ, মীন: মানসিক চাপ, আর্থিক সমস্যা ও পারিবারিক অশান্তির সম্ভাবনা।
মিথুন ও কর্কট: মিশ্র প্রভাব—একদিকে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে উন্নতির সুযোগ।
সিংহ ও কন্যা: তুলনামূলক শুভ, আর্থিক লাভ ও সহায়তার ইঙ্গিত।
তুলা: মানসিক উদ্বেগ ও ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা।
বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস
বিজ্ঞানীরা চন্দ্রগ্রহণকে বায়ুমণ্ডলের প্রভাবিত আলোছায়ার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে বহু সংস্কৃতিতে আজও গ্রহণকে আধ্যাত্মিক বার্তা বা অশুভ সংকেত হিসেবে দেখা হয়। একদিকে বৈজ্ঞানিক যুক্তি, অন্যদিকে প্রাচীন বিশ্বাস—দুয়ের টানাপোড়েনেই এই রক্তাভ চন্দ্রগ্রহণ ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
'দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।