Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

৩৯ বছরে হৃদরোগে মৃত্যু খোদ হার্ট সার্জনের! ডাক্তারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, কেন এমন হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকদের মধ্যেও তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাক ও আকস্মিক মৃত্যু এখন এক উদ্বেগজনক প্রবণতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে (doctors health crisis)।

৩৯ বছরে হৃদরোগে মৃত্যু খোদ হার্ট সার্জনের! ডাক্তারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, কেন এমন হচ্ছে?

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 2 September 2025 13:42

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেন্নাইয়ের সেভিথা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ গ্র্যাডলিন রয় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন, পরে তাঁর মৃত্যুও হয়। রবিবার সকালে ওয়ার্ড রাউন্ড চলাকালীন আচমকাই তিনি পড়ে যান। সহকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি (Chennai heart surgeon death)।

এই মৃত্যু চিকিৎসক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকদের মধ্যেও তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাক (young doctor heart attack) ও আকস্মিক মৃত্যু (doctor sudden death) এখন এক উদ্বেগজনক প্রবণতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে (doctors health crisis)।

হায়দরাবাদের নিউরোলজিস্ট ডা. সুদীর কুমার জানিয়েছেন, তাঁকে বাঁচাতে CPR, জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্ট বসানো, ইনট্রা-অর্টিক বেলুন পাম্প এবং এমনকী ECMO পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু বাঁ দিকের মেইন আর্টারিতে ১০০% ব্লকেজের কারণে মারাত্মক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে আর ফেরানো যায়নি।

ডা. রয় জটিল হার্ট সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্ত্রীর পাশাপাশি এক ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ল।

চিকিৎসকদের মধ্যে নিঃশব্দ এক স্বাস্থ্য সংকট

ডা. কুমার জানান, যাঁরা অন্যের জীবন বাঁচাতে জীবন কাটান, তাঁরাই নিজেদের দিকে সবচেয়ে কম নজর দেন (India doctor lifestyle risks)। দীর্ঘ সময়ের কাজ, একটানা চাপ, ওষুধ-আইনি ঝুঁকি এবং ঘুমের ঘাটতি ধীরে ধীরে হার্টের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

জীবনযাত্রার প্রভাব

চাপের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত রুটিন, শরীরচর্চার অভাব এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়াও চিকিৎসকদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অপারেশন থিয়েটারে দাঁড়িয়ে থাকা বা কনসালটেশনে বসে থাকার কারণে তাঁদের শারীরিক নড়াচড়া প্রায় থাকে না। হাসপাতালের খাবারের উপর নির্ভরশীলতা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ ও ডিপ্রেশনও পরিস্থিতি জটিল করছে। এছাড়া ধূমপান ও মদ্যপানের প্রবণতাও কিছু ক্ষেত্রে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

ডা. কুমারের লেখা “When the Healer Falls: A Wake-Up Call for Doctors’ Heart Health” শিরোনামের পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন,  পাইলটদের যেখানে বাধ্যতামূলক বিশ্রামের নিয়ম আছে, সেখানে চিকিৎসকরা কেন ঘুম-বঞ্চিত অবস্থায় কাজ করবেন?

অন্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের মতো অন্যান্য পেশাদাররাও একই সমস্যায় ভুগছেন, অতিরিক্ত চাপ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা তাঁদের হার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

খ্যাতনামা কার্ডিয়াক সার্জন ডা. ভি.ভি. বাসি বলেন, তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ ও হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের অভাবই এর মূল কারণ।

তিনি সতর্ক করে জানান, জিমে যাচ্ছেন তাই সেই অর্থে ফিট দেখালেও কেউ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জিমের মধ্যেই হঠাৎ মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। অতি-পরিশ্রম, অবহেলিত ক্লান্তি বা হালকা বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গগুলোকে অবহেলা করলে প্রাণঘাতী বিপদ ডেকে আনতে পারে।

পরিবর্তনের দাবি উঠেছে চিকিৎসক মহলে

এই মর্মান্তিক ঘটনায় চিকিৎসক সমাজে কাজের পরিবেশ ও নীতিগত সংস্কারের দাবি উঠছে। ডা. কুমারের মতে, চিকিৎসকদের নিজের সীমা চিনতে হবে এবং প্রয়োজনে “না” বলতে শিখতে হবে - নিজের, রোগীর এবং পরিবারের স্বার্থে।


```