বয়স ও জিন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু সুস্থ জীবনযাপন অনেকটাই ঝুঁকি কমাতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 September 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ওয়ার্ল্ড অ্যালজাইমার্স ডে (World Alzheimer’s Day)। এ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অ্যালজাইমার্স সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ানো হয়। এ বছরও (২০২৫) দিনটিকে সামনে রেখে নিউরোলজিস্ট কুনাল বহরানি, ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ও হেড অব নিউরোলজি, মেরেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালস, ফরিদাবাদ (এনসিআর), সতর্ক করলেন - আগামী দিনে এই রোগের প্রকোপ ভয়াবহ হারে বাড়বে।
ডাঃ বহরানির মতে, “অ্যালজাইমার্স বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা স্নায়ুরোগগুলির মধ্যে অন্যতম। বয়স ও জিনগত কারণ প্রধান ঝুঁকি হলেও তরুণ বয়স থেকেই সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে অনেকাংশে ঝুঁকি কমানো সম্ভব (Alzheimer’s prevention)।”
তিনি বলেন, বয়স, জিন এবং জীবনধারার মিলিত প্রভাবে অ্যালজাইমার্সের ঝুঁকি তৈরি হয়। বয়স ও জিন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু সুস্থ জীবনযাপন অনেকটাই ঝুঁকি কমাতে পারে। সেই শুরুটা যত তাড়াতাড়ি করা যায়, ততই ভাল – এমনই মত চিকিৎসকের।
কোন বয়সে কোন অভ্যাস জরুরি?
৩০-এর কোঠায়-
• সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন।
• ফল, সবজি, হোল গ্রেইন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান।
• যোগা ও মেডিটেশন করুন। মানসিক চাপ কমানোর দিকে নজর রাখুন।
• নতুন ভাষা শেখা, সঙ্গীত বা পাজল সমাধানের মতো মাথা খাটানোর শখ গড়ে তুলুন।
• নিয়মিত ঘুমের সঠিক অভ্যাস বজায় রাখুন।
৪০-এর কোঠায় -
• শুধু মস্তিষ্ক নয়, হার্টের স্বাস্থ্যও নজরে রাখুন। ব্লাড প্রেশার, কোলেস্টেরল, ব্লাড সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করান।
• ধূমপান এড়িয়ে চলুন, মদ্যপান সীমিত করুন।
• স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই ঝুঁকি চিহ্নিত হয়।
• সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এড়িয়ে চলুন, বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখুন।
• ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স ভীষণ জরুরি।
৫০-এর কোঠায় -
• স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজ (যোগাসন-সহ) করুন।
• হার্ট ফ্রেন্ডলি ডায়েট মেনে চলুন।
• পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
• পড়াশোনা, মেন্টরিং বা অন্য কোনও কাজ যা মনকে ভাল রাখে এমন কাজ চালিয়ে যান।
• সামাজিক সম্পর্ক ও কমিউনিটি কার্যকলাপে সক্রিয় থাকুন।
বিশেষজ্ঞের বার্তা
ডাঃ বহরানি জোর দিয়ে বলেন, “জীবনধারার অনেকগুলো ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। স্বাস্থ্যকর ডায়েট, পর্যাপ্ত ঘুম আর স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের মতো অভ্যাস গড়ে তুললে অ্যালজাইমার্সের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।”