চিনি নাকি গুড় (jaggery vs sugar) - কোনটা বেছে নেওয়া উচিত, সেই বিতর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 November 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চা, কফির জন্য বা সাধারণভাবে মিষ্টির 'হেলদি' অপশন (healthy sweet option) কী হতে পারে? কীসেই বা পুষ্টিগুণ বেশি? চিনি নাকি গুড় (jaggery vs sugar) - কোনটা বেছে নেওয়া উচিত, সেই বিতর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়।
তবে একথা নিশ্চিত, অতিরিক্ত প্রসেসড চিনি (refined sugar effects on health) শরীরের ক্ষতি করে, বিশেষত এই ব্যস্ত, ডেস্ক-চেয়ারে আটকে থাকা জীবনযাপন, দূষণের যুগে। তাই এখনই সময়, একটু সচেতন হয়ে মিষ্টির বিকল্প যদি খুঁজে নেওয়া যায়। তাহলে, চিনি নাকি গুড়?
সার্টিফায়েড পুষ্টিবিদ দিব্যা কৌর তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, চিনির তুলনায় গুড়ের গুণ অনেক বেশি, যদিও দু’টির ক্যালোরি প্রায় সমান।
চিনি মানে শুধু কার্বোহাইড্রেট, গুড়ে আছে পুষ্টিও
চিনির প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৩৮৭ ক্যালোরি, আর গুড়ে প্রায় ৩৮২ ক্যালোরি থাকে। তবে পার্থক্য এই যে, চিনি কেবলমাত্র 'পিওর কার্বোহাইড্রেট', অর্থাৎ এতে কোনও খনিজ বা পুষ্টিগুণ নেই। অন্যদিকে গুড়ের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম - যা শরীরের হাড় মজবুত করতে, রক্তে আয়রনের পরিমাণ বাড়াতে ও স্নায়ু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, গুড়ে রয়েছে জিঙ্ক, কপার, ফসফরাস ও ভিটামিনের উপস্থিতি, যা রিউম্যাটিক ব্যাধি বা জয়েন্টের সমস্যাও প্রতিরোধ করতে পারে।
গুড় শরীরে শক্তি ধরে রাখে দীর্ঘক্ষণ
চিনি শরীরে তাত্ক্ষণিক গ্লুকোজ বাড়ায়, আবার দ্রুত তা কমেও যায়। ফলে ক্লান্তি বা অস্থিরতা দেখা দেয়। কিন্তু গুড় ধীরে ধীরে শক্তি ছাড়তে সাহায্য করে, ফলে শরীরে এনার্জি টিকে থাকে দীর্ঘক্ষণ। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, গুড় বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে।
গুড়ে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হজমের গুণ
চিনি ফাইবারশূন্য এবং হজমে সহায়ক নয়। কিন্তু গুড়ে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হজমের প্রক্রিয়ায় সামান্য হলেও সাহায্য করে। গবেষণা বলছে, ভাজা ছোলা ও গুড় একসঙ্গে খেলে শরীরের পেশি শক্ত হয়, হজমতন্ত্র পরিষ্কার থাকে, ফাইবারের ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীর থেকে টক্সিন দূর হয়।
স্বাদ একই, গুণে অতুলনীয়
দিব্যা কৌর পরামর্শ দিয়েছেন, চা, মিষ্টি বা বেকিংয়ের সময় একবার চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করে দেখুন। স্বাদে তেমন পার্থক্য হবে না, কিন্তু আপনার খাবার হবে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
গুড় শুধু একটি মিষ্টি নয় - এটি আসলে শরীরের প্রাকৃতিক শক্তির উৎস, যা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সামান্য জায়গা পেলেই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।