খাবারের হজম ক্ষমতাজনিত সমস্যার সঠিক শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ পেটের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2025 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক সময়ই দেখা যায়, কোনও বিশেষ কারণ ছাড়াই হজমের সমস্যা (indigestion issues) হচ্ছে, পেটব্যথায় (stomach cramp) কাবু হয়ে পড়ছেন। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না, ঠিক কী সমস্যা হচ্ছে। হতে পারে এর পিছনে রয়েছে একটা বিশেষ খাবার। হয়তো আগেও খেয়েছেন, কিন্তু এরকম হয়নি বলে কারণ বোঝা যায়নি। এটাই ফুড ইন্টলারেন্স (food intolerance) বা যাকে সোজা ভাষায় বললে বোঝায় – কোনও একটা খাবার হজম করতে সমস্যা হচ্ছে শরীরের।
এই ফুড ইন্টলারেন্স কিন্তু অ্যালার্জির (food allergy) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আলার্জি যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, সেখানে ফুড ইন্টলারেন্স বোঝায় শরীর কোন খাবার ঠিকভাবে হজম করতে পারছে না।
গুরুগ্রাম ম্যাক্স হাসপাতালের ক্লিনিকাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েটিশিয়ান সুরভী শর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যদি আপনি নিয়মিত কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন, তাহলে সেটা ফুড ইন্টলারেন্সের ইঙ্গিত হতে পারে।”
পুষ্টিবিদ সুরভী শর্মা আরও শেয়ার করেছেন কিছু লক্ষণ যা আপনার পেটের সমস্যার কারণে হতে পারে -
১. খাওয়ার পর পেটে ফোলাভাব (Bloating):
যদি খাবার খাওয়ার পর আপনার পেট ফুলতে থাকে বা শক্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে এটি ইন্টলারেন্সের একটি চিহ্ন হতে পারে। সাধারণত ল্যাকটোজ (দুধজাতীয় খাবারে থাকে), গ্লুটেন (গমে থাকে) এবং কিছু ফার্মেন্টেবল কার্বস হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কী করতে হবে: খাবারের একটি ডায়েরি রাখুন, কোন খাবার খেলে সমস্যা হয় তা নোট করুন। এছাড়াও ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে এলিমিনেশন ডায়েট অনুসরণ করতে পারেন।
২. প্রায়শই গ্যাস বা ক্র্যাম্পিং (Frequent gas or cramping):
নিয়মিত গ্যাস, পেটের ক্র্যাম্প বা অস্বস্তি ইঙ্গিত দিতে পারে যে আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম কিছু উপাদান হজম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে। এই লক্ষণগুলো খাবারের কয়েক ঘণ্টা পর দেখা দিতে পারে এবং সারাদিন থাকতে পারে।
কী করতে হবে: খাবারের ধরণ লক্ষ্য করুন। দুধজাত, গম বা কৃত্রিম মিষ্টি খাওয়ার পর কি এই সমস্যা হচ্ছে? এই খাবারগুলো কমানো বা এড়ানো সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
৩. অনিয়মিত মলত্যাগ (Irregular bowel movements):
ফুড ইন্টলারেন্স ডায়রিয়া, কনস্টিপেশন বা দুই-ই ঘটাতে পারে। যদি মলত্যাগের অভ্যাস স্ট্রেস, ভ্রমণ বা অসুস্থতার কারণে এদিকওদিক না হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটা কোনও বিশেষ খাবারের প্রতি আপনার হজমতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া।
কী করতে হবে: পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন, এবং দেখুন আইবিএস (IBS) বা IBD মতো কোনও পরিস্থিতি রয়েছে কিনা। সম্ভব হলে ফুড ইন্টলারেন্সের সম্ভাবনাও খুঁজে বের করুন।
৪. খাওয়ার পর বমি বা মৃদু বমিভাব (Nausea after eating):
খাবার খাওয়ার পর সামান্য বমিভাব অনুভব হওয়া শরীরের একটি সংকেত যে কিছু খাবার সহ্য হচ্ছে না। সাধারণত দুধজাত, গ্লুটেন বা কিছু প্রসেসড খাবার এমন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কী করতে হবে: কখন বমিভাব হয় এবং কোন খাবারের পর হয় তা নোট করুন। সন্দেহজনক খাবার ধীরে ধীরে বাদ দিয়ে মূল কারণ চিহ্নিত করুন।
৫. দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিডিটি বা হার্টবার্ন (Persistent heartburn or acid reflux):
ক্রনিক অ্যাসিডিটি বা হার্টবার্ন বোঝায় যে শরীর কিছু খাবার সহ্য করতে পারছে না। সাধারণ ট্রিগার মশলাদার খাবার, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, টম্যাটো বা টকজাতীয় ফল। তবে কিছু ক্ষেত্রে দুধজাত বা গ্লুটেনের ইন্টলারেন্সও ভূমিকা রাখতে পারে।
কী করতে হবে: কোন খাবার এই সমস্যা করছে লক্ষ্য করুন। রাতে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। সমস্যা চলতে থাকলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
সুরভী শর্মা সতর্ক করেছেন, নিজের শরীরের সংকেত মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। খাবারের হজম ক্ষমতাজনিত সমস্যার সঠিক শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণ পেটের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।