কেউ যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেলেন, তখন পরিপাকতন্ত্রের উপর চাপ পড়ে। হজম হতে সময় লাগে বেশি। গ্যাস জমে, পেট ফেঁপে যায়, বমি ভাব হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 July 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাতে একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেল। পাতে পড়েছিল প্রিয় চিকেন কষা, সঙ্গে গরম ভাত আর ঘি। একটু পরে এল মিষ্টিও। আর কী! অতিরিক্ত খাওয়ার পর পেট যেন কিছুতেই সায় দিচ্ছে না। অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, হেঁচকি, ঢেঁকুর, একাধিক উপসর্গ এসে জোটে একসঙ্গে। তখন একটাই প্রশ্ন ঘোরে মাথায়, কী করে হজম করব এতটা খাবার?
এই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন চিকিৎসক এবং নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞরা। পুষ্টিবিদ দীপা সিংহ জানাচ্ছেন, শরীরের হজমক্ষমতার একটা সীমা আছে। কেউ যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেলেন, তখন পরিপাকতন্ত্রের উপর চাপ পড়ে। হজম হতে সময় লাগে বেশি। গ্যাস জমে, পেট ফেঁপে যায়, বমি ভাব হয়।
#REl
চিকিৎসক অনির্বাণ বসুর কথায়, খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না। বরং একটু হাঁটুন ঘরের মধ্যে। হালকা হাঁটাচলা পেটের কাজ সহজ করে। দরকার পড়লে সামান্য জল খেতে পারেন, তবে একেবারেই ঠান্ডা জল নয়।
তিনি বলেন, 'হাতের কাছে ওআরএস না থাকলে সামান্য লবণ-চিনি মিশিয়ে জল খেতে পারেন। এতে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য থাকে, বমি ভাব কমে।'
কী খাবেন, কী খাবেন না?
পুষ্টিবিদ দীপার বক্তব্য, 'অতিরিক্ত খাওয়ার পরের দিন সকালে একেবারে ভারী কিছু খাবেন না। পাতলা ও সহজপাচ্য খাবার খান। যেমন, চিঁড়ে বা ওটস ভিজিয়ে সামান্য দই দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সঙ্গে এক চামচ মধু খাওয়া যেতে পারে হজমের জন্য। তাঁর দাবি, আদা, জিরে, জোয়ান, এই উপাদানগুলো প্রাকৃতিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে। বেশি খেয়ে অস্বস্তি হলে অল্প আদা কুচি গরম জলে ফুটিয়ে খেতে পারেন বা আধ চামচ জিরে চিবিয়ে খাওয়াও উপকারী।
কোন ভুল করবেন না?
আয়ুর্বেদ কী বলে?
আয়ুর্বেদ চিকিৎসক রূপা মুখোপাধ্যায়ের মতে, 'অতিরিক্ত খাওয়ার পর হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে জোয়ান ও লবণের সংমিশ্রণে তৈরি ঘরোয়া মিশ্রণ খাওয়া যেতে পারে। এক চিমটে জোয়ান, সামান্য বিটনুন ও অল্প গরম জল খুব ভাল কাজ দেয়।'