মাঝে মাঝেই হওয়া এই ক্রেভিংকে আমরা স্বাভাবিক বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু পুষ্টিবিদ বলছেন, এই প্রবণতা মোটেই সাধারণ নয় (sugar cravings after meals)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবারের পর হঠাৎ মিষ্টি না পেলে (sugar cravings after meals) তো খাওয়াটাই যেন সম্পূর্ণ মনে হয় না। অথবা বিকেলের দিকে মিষ্টি কিছু খেলেই হয়। মাঝে মাঝেই হওয়া এই ক্রেভিংকে আমরা অনেকেই স্বাভাবিক বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু পুষ্টিবিদ (Nutritionist tips) পূজা মাখিজা বলছেন, এই প্রবণতা মোটেই সাধারণ নয় (sugar cravings real reasons)। বরং শরীর ঠিক কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বোঝা দরকার।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার যে জায়গাগুলি আমরা প্রায়শই অবহেলা করি যেমন মিষ্টি খাওয়ার নেশা, ব্রেকফাস্ট না করা, জল খাওয়া নিয়ে নানারকম ভুল ধারণা, কতটা নুন খাব তা নিয়ে বিভ্রান্তি - সবটাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে জনপ্রিয় ডায়েট-মিথ ভেঙে উঠে আসে সচেতন খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব।
পুষ্টিবিদ জানান, “চিনি নাকি কোকেনের চেয়েও আট গুণ বেশি নেশাসৃষ্টিকারী।” কিন্তু আমরা কোকেনকে ভয় পাই, কারণ জানি সেটি ক্ষতিকর। অথচ চিনি দিনের পর দিন খেয়ে যাচ্ছি শুধু মনের আনন্দে। এর প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় খিটখিটে মেজাজ, এনার্জির ওঠানামা, ঘুমের ব্যাঘাত, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া - যাকে আমরা গুরুত্বই দিই না।
এই প্রশ্নের উত্তরে পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা জানান, এর মূল কারণ কিন্তু মানসিক নয়, শরীরিক। ডায়েটে প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে শরীর ভুয়ো সংকেত পাঠায়, বোঝায় যে শরীরে গ্লুকোজ দরকার। ফলে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে। এভাবেই তৈরি হয় এক ধরনের ‘চিনির ওপর নির্ভরতা’, যেখান থেকে বেরোনো কঠিন হয়।
অনেকেই মনে করেন ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে শরীর হালকা থাকে, ডায়েটেও ফল পাওয়া যায়। কিন্তু পূজা মাখিজা একেবারেই উল্টো এক সতর্কতা দেন।
তিনি বলেন, ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে গেলে পেটে মেদ বাড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, এমনকি ওবেসিটির ঝুঁকিও বাড়ে। কারণ সকালে দীর্ঘক্ষণের উপোস শরীরের মেটাবলিক রিদম নষ্ট করে দেয়। ফলে দিনে বেশি খাওয়া হয়ে যায়, অনিয়ন্ত্রিত খিদে, এনার্জির গরমিল - সব মিলিয়ে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
আজকাল প্রায় সব বাড়িতেই ফিল্টার করা জল খাওয়া হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদ পূজার মতে আধুনিক ফিল্টার সিস্টেম শুধু জলে থাকা অশুদ্ধি নয়, প্রয়োজনীয় মিনারেলসও ফিল্টার করে ফেলে।
তিনি বলেন, এতে ধীরে ধীরে হাইড্রেশন লেভেল দুর্বল হতে থাকে। সমাধান? এক চিমটে সাদা নুন বা সৈন্ধব নুন মিশিয়ে নিলে শরীরের প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট ফিরিয়ে আনা যায়, আর জল সহজে শোষিত হয় শরীরে।
ডায়েটে নুনের নানা দোষ আমরা বরাবরই শুনে এসেছি। কিন্তু পূজা উদাহরণদিয়ে বুঝিয়ে বললেন, “সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, শরীরের অনেক কাজেই লাগে। নুন তাই অপরাধী নয়।” তাঁর দাবি, লবণকে ইচ্ছে করেই ‘খলনায়ক’ বানানো হয়েছে, যাতে আসল দোষী, চিনি, নজরের বাইরে থাকে।
বর্তমানে ট্রেন্ডে ভেসে পশ্চিমি ডায়েটের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন অনেকেই। কিন্তু পুষ্টিবিদ মনে করিয়ে দেন, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী থালি বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিসমৃদ্ধ, সুষম এবং ব্যালান্সড খাবার। অথচ দ্রুত জনপ্রিয়তার দৌড়ে আমরা সেটিকেই আজ অবহেলা পাচ্ছে।
পুষ্টিবিদ বলেন, নিয়মিত মদ্যপান করলে যে ঘুম হয় তা ‘ফেক স্লিপ’। অ্যালকোহল মানুষকে ঘুম পাড়াতে সাহায্য করলেও শরীর তার দরকার মতো রেস্টোরেটিভ স্লিপ সাইকেলে ঢুকতে পারে না। ফলে পরের দিন দেখা দেয় বিরক্তি, ক্লান্তি, মন খারাপ।
ব্রেকআপ, মানসিক ক্লান্তি, কর্মক্ষেত্রের চাপ - এ সব সময়েই অনেকের খাওয়াদাওয়া অনিয়মিত হয়ে যায়। পূজার সতর্কবার্তা, এই সময় ঠিকমতো না খেলে মানসিক আর শারীরিক, দুই দিকেই অবনতি ঘটে। তাই এসব সময় সচেতনভাবে খাবার বেছে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সবশেষে পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা মনে করিয়ে দেন, প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত - কখন খাব, কী খাব, কত জল খাব, কতটুকু চিনি খাব - এসবই ধীরে ধীরে শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। মাইন্ডফুল ইটিং, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও দৈনন্দিন অভ্যাসের সচেতনতা - এই তিনেই লুকিয়ে রয়েছে ভাল স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।