অনেক ক্ষেত্রেই শীতকালে মহিলাদের মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টিগত ঘাটতি, বিশেষ করে অ্যানিমিয়ার সমস্যা, বেড়ে যায়। এই বিষয়টি ঠিক কতটা গুরুতর এবং কীভাবে তা সামলানো যায়?

শেষ আপডেট: 13 December 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত এলেই শরীরে নানা রকম পরিবর্তন চোখে পড়ে। আবহাওয়ার বদলের সঙ্গে সঙ্গে এনার্জি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা - সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যের উপর বেশ প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই শীতকালে মহিলাদের মধ্যে বিভিন্ন পুষ্টিগত ঘাটতি, বিশেষ করে অ্যানিমিয়ার সমস্যা (Anaemia in women), বেড়ে যায়। এই বিষয়টি ঠিক কতটা গুরুতর এবং কীভাবে তা সামলানো যায় (Winter health tips for women)?
ডা. স্বাতী সিনহা, রোজওয়াক বাই রেনবো হসপিটালস-এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অবস্টেট্রিক্স ও গাইনোকোলজি), জানান, শীতে মহিলাদের মধ্যে অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি সত্যিই বেড়ে যায়।
কেন শীতে মহিলাদের অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে?
ডা. স্বাতী সিনহার ব্যাখ্যা, শীতকালে সূর্যের আলো শরীরে তুলনামূলক কম লাগার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি তৈরি হয়। আর এই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিই (Vitamin D deficiency winter) অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম বড় কারণ।
এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে, তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “শরীরে আয়রন শোষণ নিয়ন্ত্রণ এবং রেড ব্লাড সেল বা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভিটামিন ডি-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শীতকালে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কমে গেলে শরীরে হেপসিডিন নামের একটি হরমোন বেশি তৈরি হয়, যা আয়রন শোষণের পথে বাধা দেয়।”
এর ফলে ধীরে ধীরে শরীরে আয়রন শোষণ কমতে থাকে (iron deficiency women,) এবং শেষ পর্যন্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ডা. সিনহা আরও জানান, এই সমস্যা বিশেষভাবে গুরুতর হয়ে ওঠে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে। তাঁর কথায়, “গর্ভবতী মহিলা এবং যাঁদের শরীরের পুষ্টির চাহিদা তুলনামূলক বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকী হালকা ঘাটতিও এনার্জি লেভেল, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
এছাড়া যাঁরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের মধ্যে কাটান এবং সূর্যের আলোতে খুব একটা বেরোন না, তাঁরাও অ্যানিমিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন বলে জানান তিনি।
কীভাবে শীতে অ্যানিমিয়া সামলাবেন?
ডা. স্বাতী সিনহার মতে, শীতকালে অ্যানিমিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে একাধিক দিক একসঙ্গে নজরে রাখতে হয় - যার মধ্যে রয়েছে শরীরচর্চা, খাদ্যাভ্যাস এবং নিরাপদ সময় মেনে সূর্যের আলো শরীরে লাগানো। “সপ্তাহে অন্তত তিন দিন, দুপুরের রোদে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় কাটানো খুবই উপকারী। এই সময়ে হাত ও মুখ খোলা রাখলে তা শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়তে সাহায্য করে,” বলেন তিনি।
এর পাশাপাশি, শীতকালে আয়রন ও ভিটামিনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে খাদ্যাভ্যাসের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়াই হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানীর ভাল ও সঠিক উপায়। কোন খাবারগুলি উপকারী, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে জানান ডা. সিনহা।
তিনি বলেন, “খাদ্যতালিকায় অবশ্যই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে, যেমন শাকসবজি, ডাল এবং ফোর্টিফায়েড সিরিয়াল। আয়রন শোষণ বাড়ানোর জন্য সঙ্গে রাখতে হবে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন লেবুজাতীয় ফল বা আমলকি। এছাড়া ভিটামিন ডি-এর জন্য গুড ফ্যাটসমৃদ্ধ মাছ এবং ডিমও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।”
এর পাশাপাশি নিয়মিত হিমোগ্লোবিন, ফেরিটিন এবং ভিটামিন ডি পরীক্ষা করানোর উপরও জোর দেন তিনি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত বলেও জানান ডা. স্বাতী সিনহা।