দিন শুরুর এনার্জিতে ভরপুর মুহূর্তটা বিকেলের মধ্যেই দ্রুত পরিণত হয় ‘একটু ঘুম হলে ভাল হত’ (diet mistakes that cause fatigue)- এবং তারপরই পরপর কফি-চা খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 November 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিকেলের দিকে আচমকা এনার্জি ড্রপ (energy drop at afternoon symptoms), মাথা ঝিম ঝিম করা, কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ (attention problem) কমে যাচ্ছে? মনে হচ্ছে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলে যেন ভাল হয় (fatigue)। এই ‘আফটারনুন স্লাম্প’ (afternoon slump)-এ অফিসের একঘেয়েমি নয়, দায় থাকতে পারে সকালে কী খেয়েছেন তার ওপর (breakfast mistakes)। দিন শুরুর এনার্জিতে ভরপুর মুহূর্তটা বিকেলের মধ্যেই দ্রুত পরিণত হয় ‘একটু ঘুম হলে ভাল হত’ - এবং তারপরই পরপর কফি-চা খাওয়ার প্রবণতা (evening tea coffee habit) বাড়ে। অনেক সময় দুপুরে খাওয়ার সময় হওয়ার আগেই খিদে (sudden hunger) চেপে বসে।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেরাদুনের কৈলাস হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান পায়েল দত্ত জানালেন, দিনের প্রথম খাবারটাই ঠিক করে দেয় দুপুরের পর থেকে আপনার এনার্জি লেভেল কেমন থাকবে (breakfast mistakes that cause fatigue)।
তিনি বলেন, “অনেকে দুপুরের আগে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অস্বাভাবিক খিদে অনুভব করেন। আর এর মূল কারণ লুকিয়ে থাকে ব্রেকফাস্টের কয়েকটি সাধারণ ভুলে।”
পুষ্টিবিদ পায়েল দত্তের মতে, সঠিক ব্রেকফাস্ট হল সেই খাবার যা রক্তে সুগারের ভারসাম্য ধরে রাখে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং দিনের এনার্জি লেভেলকে স্থির রাখে। কিন্তু ব্রেকফাস্টে ভুল করলে দুপুর হওয়ার আগেই ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং খিদে পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
ব্রেকফাস্টে কোন ৫টি ভুল আপনার সারাদিনের এনার্জি লেভেলে প্রভাব ফেলছে?
১. দিনের শুরুতেই অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার
পায়েলের মতে, সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে সকালে অত্যধিক সুগার খাওয়া - যেমন সিরিয়াল, পেস্ট্রি, মিষ্টি পানীয়। এগুলো রক্তে সুগার দ্রুত বাড়িয়ে দিয়ে আবার তাড়াতাড়ি কমিয়ে দেয়, যাকে বলে শার্প সুগার ক্র্যাশ।
তিনি বলেন, “এই হঠাৎ কমে যাওয়া ব্লাড সুগার থেকেই আসে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং দুপুরের আগেই প্রচণ্ড খিদের প্রবণতা।”
২. প্রোটিন ও ফাইবার বাদ দেওয়া
ভারতীয় ব্রেকফাস্ট অনেক ক্ষেত্রেই কার্বোহাইড্রেট-নির্ভর - যেমন পোহা, টোস্ট, রুটি-সবজি, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি।
পুষ্টিবিদের ব্যাখ্যা, প্রোটিন রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফাইবার হজমে সাহায্য করে ও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। যদি এগুলো ব্রেকফাস্টে না থাকে, দুপুর হওয়ার আগেই এনার্জি লেভেল নেমে যায়।
৩. সকালে খুব কম খাওয়া
অনেকে ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ব্রেকফাস্টে কম খান। কিন্তু এতে উল্টে প্রভাব পড়ে।
পায়েল সতর্ক করে বলেন, “কম খেলে দিনের মাঝামাঝি শরীর আরও খাবার চাইতে শুরু করে, ফলে ওভারইটিং-এর ঝুঁকি বাড়ে।”
৪. শুধু কফি বা জুস খেয়ে দিন শুরু করা
অতিরিক্ত ব্যস্ত সকালে কফি বা জুসকে ব্রেকফাস্ট ভেবে নিলে বিপদ অনিবার্য। তিনি বলেন, কফি সাময়িক এনার্জি দিলেও পুষ্টি দেয় না। আর ফ্রুট জুস-এ থাকে বেশি চিনি, কম ফাইবার - ফলে কিছুক্ষণ পরেই আবার ক্লান্তি ও খিদেভাব।
৫. ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে যাওয়া বা ভাজাভুজি খাওয়া
পায়েল বলেন, দুটির ফলই খারাপ।
পায়েল জানান, “প্রতিদিন সকালের খাবারে ভারসাম্য থাকা জরুরি। প্রোটিন, ফাইবার, হেলদি ফ্যাট, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট মিলিয়ে।” যেমন - ডিম, দই, বাদাম, হোল-গ্রেন, ফল।
সঠিক ব্রেকফাস্ট প্ল্যানেই মিলবে সমাধান
দিনের শুরুতে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার এনার্জি ড্রপ দূর করে, মনোযোগ বাড়ায়, প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায় এবং দুপুরের আগেই খিদেভাব কমায়।