পিরিয়ড না হওয়ার পাশাপাশি যাঁদের অনেক উপসর্গও রয়েছে তাঁদের জন্যই বা কী টিপস দিলেন চিকিৎসক (gynecologist tips for PCOS management)?

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 23 November 2025 16:22
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: পিসিওএস (PCOS) মানেই মাসের পর মাস পিরিয়ড না হওয়া (irregular periods), হলেও পেটে ভয়ানক যন্ত্রণা (period cramps) - এ যেন মহিলাদের জীবন আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। শুধু তাই নয়, আরও নানা রকম উপসর্গ (PCOS symptoms) মিলে রোজনামচাতেও প্রভাব ফেলছে বিস্তর। আবার কারও পিরিয়ড সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই মানেই যে তার কোনও জটিলতা নেই, তাও জোর দিয়ে বলা যায় না, এমনটাই বলছেন সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট (gynecologist) এবং অবস্টেস্ট্রিশিয়ান ধ্রুবা রায়। কিন্তু উপায় কি? পিরিয়ড না হওয়ার পাশাপাশি যাঁদের অনেক উপসর্গও রয়েছে তাঁদের জন্যই বা কী টিপস দিলেন চিকিৎসক (gynecologist tips for PCOS management)?
তাঁর কথায়, 'সাধারণত ওভারির কাজে ব্যাঘাত ঘটলে হরমোনের ভারসাম্য (PCOS hormonal imbalance) দেখা দেয় – তার প্রভাবেই শরীরে নানা রকম প্রভাব দেখা দেয়, উপসর্গ শুরু হয়।' পিসিওএস মানেই ওজন বেড়ে যাওয়াটা অনেকের কাছেই একটা বড় সমস্যা। আবার হয়তো কেউ রোগা গড়নেরই, কিন্তু তাই হয়তো দেখা যাচ্ছে, তার পিসিওএস রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই, ডায়েট এবং এক্সারসাইজের ওপর বিশেষ জোর দিলেন অভিজ্ঞ গাইনোকলজিস্ট।
পিসিওস একবার হলে নাকি ওজন কমতে চায় না (PCOS weight loss)?
ডাঃ ধ্রুবার মত, ওজন কমানোটা কোনও কঠিন ব্যাপার নয়, শুধু মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে যে সঠিক খাবার আর এক্সারসাইজের মাধ্যমে খুব সহজেই ওজন কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, 'কেউ যদি মনে করেন ওষুধ খাবেন না, তাহলে ডায়েট এবং এক্সারসাইজেই অনেকক্ষেত্রেই কন্ট্রোলে রাখা যায় পিসিওএস বা তার উপসর্গগুলিকে।' তবে অনেকক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ওষুধ খেতে হতে পারে, কিন্তু পরে ওষুধ ছাড়াও সমস্যা আয়ত্তে রাখা যায়, মত, ডাঃ ধ্রুবার।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করণীয়? কী একদমই করব না (PCOS do's and dont's)?
গাইনোকলজিস্টের কথায়, 'অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, প্রসেসড ফুড যদি বাদ দিতে পারা যায়, নিশ্চয়ই ওজন কমবে। জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড, বেশি ময়দার খাবার একদমই চলবে না। বেশী ফাইবার থাকতে হবে ডায়েটে, যেমন - ফল, শাক সবজি, লিন প্রোটিন মানে - ডিম বা মাছ, ডাল, সয়াবিন।'
আর... যা নাহলে চলবে না?
এক্সারসাইজ। ডাঃ ধ্রুবার বিধান, 'সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট। মানে রোজ তিরিশ মিনিট করে পাঁচ দিন এক্সারসাইজ। সেটা হতেই পারে হাঁটা, জগিং বা সাইক্লিং, স্কিপিং। সকালে হাঁটার সময় না থাকলে রাতেও হাঁটতে পারেন।'
কী করে বুঝব পিসিওএস শরীরে গোপনে প্রভাব ফেলছে কি না?
দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডক্টর ধ্রুবার কথায়, ভাল করে খেয়াল রাখতে হবে যে, মাঝে মাঝেই দুর্বল লাগছে না তো, অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে কি বা ভিটামিন ডি ঠিক আছে কিনা।
পিসিওএস-এর সঙ্গে আরও একটা সংবেদনশীল বিষয় জড়িয়ে থাকে - 'মা হতে পারব তো?'
সিনিয়র গাইনোকলজিস্ট ধ্রুবা বারবার মনে করিয়ে দিলেন, অনেকদিন পর পর পিরিয়ড হওয়া, বা পিরিয়ড হল মানে অনেকদিন ধরে টানা চলবে সেটা - এখানে আসল সমস্যা হল হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। সেখানে হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে কন্ট্রাসেপটিভ পিল - যা অবশ্যই ডাক্তার যদি মনে করেন তবেই প্রেসক্রাইব করেন।
তাঁর কথায়, 'কন্ট্রাসেপটিভ পিল কিন্তু ওজন কমাতেও সাহায্য করে। কিছুদিন ওষুধ চলল, তারপর ডায়েট আর এক্সারসাইজ। নিয়মিত পিরিয়ড শুরু হওয়া মানে ওভ্যুলেশন হচ্ছে। নিয়মিত ওভ্যুলেশন হলে তিনি অবশ্যই মা হতে পারবেন।'