প্রাথমিক পর্যায়েই কোলেস্টেরল পরীক্ষা বা ধরা পড়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমবার কবে কোলেস্টেরল টেস্ট করানো উচিত?
শেষ আপডেট: 5 August 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে হার্ট অ্যাটাক যেন শহুরে জীবনের একটা ভীষণ সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পিছনে নানারকম কারণ থাকলেও, যা একদমই অস্বীকার করা যায় না, তা হল রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা। এটি কিন্তু হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
কোলেস্টেরল আসলে এক ধরনের ফ্যাটজাতীয় উপাদান যা আমাদের রক্তে থাকে। হরমোন তৈরি, কোশ গঠনে এবং হজমে সহায়তাকারী উপাদান তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে কোলেস্টেরলেরও দু’টি ধরন রয়েছে - একটা ভাল, একটা খারাপ। ভালটা দরকারি, খারাপটা বিপজ্জনক।
HDL বা ‘ভাল কোলেস্টেরল’ শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে যকৃতে পৌঁছে দেয়, যেখানে তা ভেঙে যায় বা বেরিয়ে যায়। এই কোলেস্টেরল হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। LDL বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ রক্তনালিতে জমে গিয়ে ধমনিতে ব্লকেজ তৈরি করতে পারে, যা হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম কবে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত?
ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও পোস্টে কার্ডিওলজিস্ট অর্থাৎ, ডাঃ নবীন ভামরি (MD, DM – Cardiology) জানান, “বেশিরভাগ মানুষ কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান তখনই, যখন কোনও সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল, প্রথমবার কবে এই টেস্ট করানো উচিত?”
ডাক্তারের মতে কোলেস্টেরল টেস্ট করানোর প্রাথমিক বয়স কত?
ডাঃ ভামরির মতে, সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রথম কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত ২০ বছর বয়সে। এবং এটি হওয়া উচিত ফাস্টিং লিপিড প্রোফাইল টেস্ট। অর্থাৎ, খাওয়ার ১২ ঘণ্টা পরে টেস্ট করাতে হয়। যদি সেই রিপোর্টে সবকিছু স্বাভাবিক আসে, তাহলে প্রতি ৪ থেকে ৬ বছর অন্তর সেই পরীক্ষা আবার করানো উচিত।
কিন্তু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে?
যদি আপনি উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েন যেমন- পরিবারের মধ্যে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, ডায়াবেটিস থাকে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, ওবেসিটি বা ওজন বাড়ার সমস্যা, ধূমপানের অভ্যাস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) রয়েছে এমন কেউ। তাছাড়া, দিনের বেশিরভাগ সময় যদি নড়াচড়া বেশি না হয়, তাহলেও তাঁকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাতেই রাখা হয়।
এইসব ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত, বলছেন এই বিশেষজ্ঞ।
তিনি জানান, “ভারতের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কেউ মোটা হন এবং পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তবে মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই লিপিড প্রোফাইল টেস্ট শুরু করে দেওয়া উচিত।”
এছাড়াও তিনি বলেন, “কম বয়স থেকেই যদি লাইফস্টাইল ঠিক করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।”