হৃদ্রোগ একদিনে আসে না। আগে থেকেই শরীর কিছু সংকেত দেয়। তাই ECG করালেই সব জানা যাবে, এই মিথ ভাঙার সময় এখনই।

শেষ আপডেট: 2 August 2025 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধরা যাক, আপনি স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন, তাই ইসিজি-ও (ECG) করান নিয়ম মেনে। সেটা ভাল কথা, কিন্তু তাতেও কি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হওয়া সম্ভব?
আদতে, হার্টের অবস্থার আসল চিত্র এত সহজে ধরা পড়ে না, এমনটাই বলছেন কার্ডিয়োলজিস্ট ডাঃ নবীন ভামরি। তাঁর মতে, ইসিজি-তে আপনি হার্ট সংক্রান্ত মোটামুটি ২০-৩০ শতাংশ তথ্য পেয়ে যান ঠিকই, কিন্তু বাকি ৭০-৮০ শতাংশ তথ্য জানতে গেলে আরও দুটো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ভীষণ জরুরি - টিএমটি (TMT) এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Echocardiography)।
সম্প্রতি ২২ জুলাই, নিজের একটি ইনস্টাগ্রাম রিলে ডাঃ ভামরি এই বিষয় সম্পর্কে সচেতনতার উদ্দেশে একটি পোস্ট করেন। তিনি জানান, “ইসিজির রিপোর্ট যদি স্বাভাবিকও আসে, তবুও তাতে হার্টের আসল অবস্থা বোঝা যায় না।”
টিএমটি (TMT) কী? কেন এটা বেশি জরুরি?
ডাঃ ভামরি জানান, TMT বা ট্রেডমিল টেস্টের সময় ECG-র সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে একটি ট্রেডমিল যন্ত্রে হাঁটতে বা দৌড়তে বলা হয়। পরীক্ষার সময় যন্ত্রটির গতি ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় এবং সেই সময়কার ECG-র পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য:
• হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছচ্ছে কিনা সেটা দেখা
• বুক ধড়ফড় বা বুকে ব্যথার উৎস নির্ণয় করা
• রক্তচাপ এবং হার্টবিট মনিটর করা স্ট্রেস অবস্থায়
• কেউ হার্ট অ্যাটাকের পর কতটা সুস্থ হয়েছেন, সেটা বোঝা
যদি এই সময় বুকে ব্যথা শুরু হয় বা ECG-তে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, সেটা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের পূর্বাভাস হতে পারে।
ইকোকার্ডিওগ্রাফি বা ইকো টেস্ট কী?
এখানে পরীক্ষার কথা ডাঃ ভামরি বলছেন, তা হল ইকোকার্ডিওগ্রাফি বা ইকো টেস্ট, এটি হার্টের আল্ট্রাসাউন্ড। অর্থাৎ আপনি আপনার হার্টের কাজকর্ম সরাসরি দেখতে পারবেন একটি স্ক্রিনে, সম্পূর্ণ রিয়েল-টাইমে।
ইকো টেস্ট কী কী জানায়?
• হৃদযন্ত্রের ইজেকশন ফ্র্যাকশন বা ‘পাম্পিং ফাংশন’ ঠিকঠাক আছে কিনা
• হার্টের ভালভের অবস্থা কেমন
• হার্ট চেম্বার বা কক্ষের আকার ও কার্যকারিতা
• চেম্বারগুলির মধ্যে কোনও অস্বাভাবিক সংযোগ আছে কিনা
ডাঃ ভামরির স্পষ্ট বক্তব্য, শুধুমাত্র ECG করিয়ে ‘সব ঠিক আছে’ বলে বসে থাকবেন না। ECG খুব জরুরি একটি প্রাথমিক পরীক্ষা ঠিকই, তবে TMT ও ইকো টেস্ট করলে মিলিতভাবে প্রায় ৮০ শতাংশ হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা ও ঝুঁকি বোঝা সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্রোগ একদিনে আসে না। আগে থেকেই শরীর কিছু সংকেত দেয়। তাই বারবার বুক ধড়ফড়, হাঁটলে বা সিঁড়ি উঠলে হাঁপ ধরা, বুক চাপা লাগা ইত্যাদি উপসর্গ এড়িয়ে যাবেন না। একবার ECG করালেই সব জানা যাবে, এই মিথ ভাঙার সময় এখনই।