
শেষ আপডেট: 15 February 2024 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রীতি মেনে সরস্বতী পুজোর পরের দিনই বাঙালি বাড়িতে শীতল ষষ্ঠী পালন করার রেওয়াজ রয়েছে। এ দিন সন্তানের মঙ্গল কামনায় ব্রত করেন মায়েরা। এই ব্রতের নিয়ম হল ঠান্ডা খাবার খাওয়া। শীতলষষ্ঠীর দিন বাড়িতে রান্না হয় না। তাই আগের দিন রাতে গোটা সেদ্ধ রান্না করে রাখা হয়। সরস্বতী পুজোর সঙ্গে এই গোটা সেদ্ধর মেলবন্ধন বহুদিনের। পুজোর পরদিন দধিকর্মা, পান্তাভাতে কুলের টক আর গোটা সেদ্ধ—প্রায় প্রতি বাঙালি ঘরেই এমন খাবারের চল রয়েছে।
মা-ঠাকুমারা বলেন, সরস্বতী পুজোর পরদিন গোটা সেদ্ধ খেতেই হবে। পাঁচ থেকে ছয় রকম সব্জি গোটা রান্না করা হয়। তার স্বাদই হয় আলাদা। পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এই গোটা সেদ্ধ কেন খেতে বলা হয়, তার কারণটা শুধুই রীতি পালন নয়, অনেকটাই বিজ্ঞানসম্মত। আগেকার দিনে যখন এতরকম ওষুধ, টিকা ছিল না, তখন রোগ ঠেকাতে প্রাকৃতিক উপাদানের উপরেই বেশি ভরসা করা হত। গোটা সেদ্ধও তেমনই একটি পুষ্টিকর খাবার। রীতি-রেওয়াজের থেকে অনেক বেশি রোগের দাওয়াই। কীভাবে, সেটা জেনে নেওয়া যাক।
শীতকাল হল সুস্বাদু সবজি খাওয়ার সময়। আর সরস্বতী পুজো মানেই তো শীতের শেষ, বসন্তের শুরু। বসন্ত যতই রোম্যান্টিক হোক না কেন, এই সময়টাতেই যত রকম অসুখবিসুখ হয়। বিশেষ করে বসন্ত ঋতু মানেই হাম, পক্সের সময়। এখন তো আবার আরও নানা রকম ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হচ্ছে। ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, জ্বর, গায়ে-হাত পায়ে ব্যথা। সেই সঙ্গে শ্বাসের রোগ, নিউমোনিয়ার প্রকোপও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরশুম বদলের এমন সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে গোটা সেদ্ধর জুড়ি মেলা ভার। এর মজার বৈশিষ্ট্য হল, কোনও সবজিই এখানে খোলা-ছাড়ানো বা কেটে রান্না হবে না। তেল-ঝাল-মশলা নয়, হালকাভাবে রান্না করতে হবে। প্রতিটা সব্জির পুষ্টিগুণই অটুট থাকবে, পাশাপাশি রান্না তরকারি হবে ফাইবার সমৃদ্ধ।
গোটা সেদ্ধয় কী কী লাগে?
আলু, রাঙা আলু, বেগুন, শিষ পালং, শিম, মটরশুঁটি, সবুজ মুগ কড়াই, মশলার জন্য আদা বাটা, হলুদ গুঁড়ো , লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে, পাঁচ ফোঁড়ন, শুকনো লঙ্কা, নুন, চিনি। প্রতিটা সব্জিই থাকবে গোটা, খোসা ছাড়ানো হবে না। ভাল করে ধুয়ে নিয়ে রান্না করতে হবে।
গোটার পুষ্টিগুণ কী?
আবহাওয়া বদলের এই সময় শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে মরশুমি শাক-সব্জি। সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে হ্যাঁ, বেশি তেল দিয়ে না মেখে খেলেই হল। গোটা সেদ্ধতে যে সব্জি ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে ফসফরিক ম্যাগনেসিয়াম এবং উচ্চ পরিমাণে পটাসিয়াম। গোটা খেলে শরীরে ভাল রকম উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ঢোকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে সাহায্য করে।
আরও একটা বড় গুণ হল, গোটা সেদ্ধররাঙা আলু, কড়াইশুঁটি, কাঁচা মুগের পুষ্টিগুণ শরীরে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যে কোনও রকম রোগজীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্ত্র ভাল রাখতে, শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে, সোডিয়াম-পটাসিয়াম লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে গোটা সেদ্ধ। এই রকম সেদ্ধ সব্জি হাল্কা মশলায় রান্না করে খেলে মেদ কমবে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমবে, রক্তাল্পতা কমে যাবে বলেই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।