ক্লিনিক এবং হাসপাতালগুলো জানাচ্ছে, ওরাল ক্যানসারের রোগীর বেশিরভাগই লাস্ট স্টেজে রয়েছেন। প্রাথমিক উপসর্গকে পাত্তা না দেওয়াই রোগের নির্মুল হওয়ার পথে বড় বাধা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 May 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারে ওরাল ক্যানসারে (মুখের ক্যানসার) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে ছয় গুণ- এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বারবার কার্সিনোজেনিক (carcinogenic-ক্যানসার সৃষ্টিকারী) রাসায়নিকের সংস্পর্শ মুখের ভেতরের কোশ এবং তার গঠনে এমন কিছু পরিবর্তন আনে, যার ফলে ম্যালিগন্যান্সি (malignancy) বা ক্যানসারের (cancer) সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ক্লিনিক এবং হাসপাতালগুলো জানাচ্ছে, ওরাল ক্যানসারের (oral cancer) রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। তাঁদের বেশিরভাগই ক্যানসারের লাস্ট স্টেজে রয়েছেন। অবহেলা এখানে একটা মূল কারণ বলে মনে করেছেন চিকিৎসকরা। প্রাথমিক উপসর্গকে পাত্তা না দেওয়াই রোগের নির্মুল হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
চিকিৎসকরা আরও জানাচ্ছেন, শুধু মুখেই নয়, তামাকের (tobacco) প্রভাব পড়ে ত্বকেও (skin)। নিকোটিন (nicotine) ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ত্বকে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়, ফলে অক্সিজেন সরবরাহ কমতে থাকে। এই কারণবশত ত্বকে আগেভাগেই বয়সের ছাপ পড়ে। চামড়া ঝুলে যেতে শুরু করে, কালচে ছোপ পড়তে থাকে, কেটে গেলে সেই ক্ষত সারতে দেরি হয়।
ডার্মাটোলজিস্ট বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় এবং বয়স বাড়ার লক্ষণ (aging) দ্রুত প্রকাশ পায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাঁরা তামাক সেবন (tobacco usage) করেন, তাঁদের নিয়মিত মুখ ও ত্বকের সাধারণ কিছু পরীক্ষা করানো উচিত। যদিও তামাক পুরোপুরি বর্জনই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়, তবুও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসায় আশার আলো দেখতে পাওয়া সম্ভব। এইজন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে যথেষ্ট পরিমাণে স্ক্রিনিং (screening) ও ক্যাম্পের (camp) আয়োজন করছে।
আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ নৃপেন্দ্র গুহ বলেন, ‘তামাক ব্যবহারে ওরাল ক্যানসারের (oral cancer) ঝুঁকি ছয় গুণ বাড়ে এবং এটাই শেষ নয়। তামাক ত্বকের ক্ষতি করে, দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে শরীরে এবং স্কিন ক্যানসারের (skin cancer) আশঙ্কা তৈরি করে। ৩১ মে অ্যান্টি-টোব্যাকো ডে (anti-tobacco day), সেই কথা মনে করিয়ে চিকিৎসকেরা সরাসরি বলছেন অবিলম্বে তামাক ছাড়ুন। আপনার হাসি, ত্বক আর সবমিলিয়ে আপনার জীবনের যত্ন নিন। অভ্যাস নয়, বরং বেছে নিন সুস্বাস্থ্য।’
এএম মেডিকেল সেন্টারের প্রোস্থোডনটিক্স বিভাগের চিকিৎসক ড. মুন চট্টরাজ বলেন, ‘তামাক ওরাল ক্যানসারের প্রধান কারণ। এই রোগের নিরিখে ভারত বিশ্বের অনেকগুলি দেশের মধ্যেও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। তামাক মুখের ভিতরে থাকা মিউকাস মেমব্রেন নষ্ট করে দেয়, যার ফলে কেরাটোসিসের (ক্ষত) মতো পরিবর্তন ঘটে, যা পরে ক্যানসারের (cancer) রূপ নিতে পারে। মহিলারা হরমোনজনিত পার্থক্য ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। ধূমপানে (smoking) মুখে ক্রমাগত তাপের কারণে রক্তপ্রবাহ কমে, কোশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাড়ি ও হাড় ক্ষয় হতে থাকে। নিকোটিন মুখে জীবাণুর পরিমাণ বাড়ায় ও দুর্গন্ধ (হ্যালিটোসিস) সৃষ্টি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুখে সাদা ছোপ বা ক্ষতের মতো দাগ দেখা দেয়- এগুলো ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। তবে সময়মতো অভ্যাস বদলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা (healthy lifestyle) বেছে নিলে এই ক্ষতির অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’