লন্ডনের চিকিৎসক ডা. অলকা প্যাটেল দাবি করেছেন, তাঁর শরীরের বয়স মাত্র ২৩ বছর। জানুন কীভাবে তিনি এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। জীবন বদলে দেওয়া ৬টি সিক্রেট শেয়ার করেছেন তিনি।

ডক্টর অলকা প্যাটেল
শেষ আপডেট: 3 June 2025 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যালেন্ডারের হিসেবে ৫৩ বছর বয়স হয়েছে লন্ডনের চিকিৎসক ডা. অলকা প্যাটেলের। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর শারীরিক বা জৈবিক বয়স মাত্র ২৩ বছর। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এই জৈবিক বয়সের অর্থ হল, আমাদের শরীরের কোষ ও টিস্যুর স্বাস্থ্য। এগুলিই আমাদের হৃদয়, মস্তিষ্ক এবং ত্বকের প্রকৃত কর্মক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার পর ডা. প্যাটেল এখন দীর্ঘায়ু এবং লাইফস্টাইল মেডিসিন নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, জৈবিকভাবে তরুণ থাকার আসল রহস্য লুকিয়ে আছে শরীরের ভিতর থেকে স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে। শরীরকে তরতাজা রাখতে বাইরে থেকে কোনও কিছুই ঘটানো সম্ভব নয়।
ডক্টর প্যাটেলের এই যাত্রা বা ভাবনা অবশ্য নিজে থেকে শুরু হয়নি। এর পিছনে রয়েছে এক চরম অভিজ্ঞতা। জানা গেছে, নিজের ৩৯তম জন্মদিনে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ডা. অলকা প্যাটেল। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছিল তাঁর। পরিস্থিতি এতই খারাপ হয়, যে তাঁর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একে একে বিকল হয়ে যেতে শুরু করে। চিকিৎসকরাও তাঁর রহস্যময় জ্বরের কারণ খুঁজে পাননি। শেষে তাঁর রোগ চিহ্নিত হয় PUO (Pyrexia of Unknown Origin) অর্থাৎ অজানা জ্বর হিসেবে। সে সময়ে শরীরের এতই ক্ষতি হয়েছিল, যে কিছু অস্ত্রোপচার করতে হয় তাঁর। সেই দাগগুলো তাঁকে এখনো মনে করিয়ে দেয় যে, নিজের যত্ন না নিলে শরীর প্রতিশোধ নেয়। ডক্টর প্যাটেলের কথায়, 'আমি জানতাম না আমার সন্তানদের আর দেখতে পাব কিনা। সেই রাত আমায় পাল্টে দিয়েছিল!'

এর পরেই নিজের শরীরের যত্ন নিতে শুরু করেন তিনি এবং শরীরকে নীরোগ রাখার, দীর্ঘায়ু রাখার অভ্যাসও শুরু করেন। তাঁর মতে, বিজ্ঞানসম্মত ডেটা বিশ্লেষণ ও আত্ম-অনুশাসনের মাধ্যমেই নিজের শরীরের কোষগুলোর কার্যকারিতা উন্নত করা সম্ভব। এর ফলে শরীর ও মনে অনেকটাই তরুণ বোধ করা যেতে পারে। এই নিয়ে নিজে আত্মবিশ্বাস অর্জনের পরে তিনি রোগীদের জন্যও মেটাবলিক বায়োমার্কার, অন্ত্রের স্বাস্থ্য, হরমোন, ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রূপরেখা তৈরি করেন।
ডক্টর প্যাটেল তারুণ্য ধরে রাখার ৬টি বিশেষ টিপসও শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেগুলোর সঙ্গে এমন সংখ্যার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, যাতে সহজে মনে রাখা যায়।
১. সূর্যালোকের স্পর্শ (১-১০): প্রতিদিন সকালে ১ মিনিট রোদে দাঁড়িয়ে, চোখ বন্ধ করে, ১০ সেকেন্ড নিজের দিনের উদ্দেশ্য ঠিক করুন।
২. শারীরিক সক্ষমতা (২-২০): রোজ ২ মিনিট করে হাঁটুন, তারপর ২০ সেকেন্ড দ্রুত দৌড়োন। এরকম বেশ কয়েক দফায় করুন। এতে হৃদয়ের স্বাস্থ্য ও শক্তি বাড়বে।
৩. জল খাওয়ার অভ্যেস (৩-৩০): প্রতি ৩০ মিনিটে ৩ ঢোক করে জল খান। এতে সারা দিন ধরে হাইড্রেটেড থাকবে শরীর।
৪. প্রশংসাও ফ্যাক্টর (৪-৪০): প্রতিদিন ৪০ সেকেন্ড ধরে নিজেকে আন্তরিক ভাবে চারটি প্রশংসা করুন। এতে নিজের মুডও ভাল থাকবে।
৫. নমনীয়তা বাড়াতে (৫-৫০): রোজ ৫টি স্ট্রেচিং অনুশীলন করুন, প্রতিটি ৫০ সেকেন্ড ধরে ধরে রাখুন। শরীরের সক্রিয়তা ও
৬. শ্বাস নিয়ে শান্ত (৬-৬০): প্রতি ঘণ্টায় অর্থাৎ ৬০ মিনিটে ১ মিনিট করে সময় নিয়ে মোট ৬টি গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন ৬ মিনিট ধরে। এটি ফুসসের ক্ষমতা বাড়াবে, নার্ভাস সিস্টেমকেও শান্ত রাখবে।