হঠাৎ মাথার চারপাশে চাপ ধরার মতো ব্যথা, এটাই টেনশনের চোটে শুরু হওয়া মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক (Tension headache)-এর সবচেয়ে পরিচিত ছবি।

শেষ আপডেট: 31 January 2026 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ মাথার চারপাশে চাপ ধরার মতো ব্যথা, এটাই টেনশনের চোটে শুরু হওয়া মাথাব্যথা বা টেনশন হেডেক (Tension headache)-এর সবচেয়ে পরিচিত ছবি। স্ট্রেস (stress) ভুল ভঙ্গিতে (poor posture) বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, কিংবা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলেই সাধারণত এই ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত জার্নাল Frontiers–এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রাইমারি হেডেক ডিসঅর্ডারের মধ্যে টেনশনে শুরু হওয়া মাথাযন্ত্রণাই সবচেয়ে সাধারণ। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এই সমস্যায় ভোগেন।
এই ব্যথা সামলানো সত্যিই কঠিন। অফিসের চাপ, দীর্ঘ সময় পড়াশোনা কিংবা একটানা স্ক্রিনে কাজ—দিন শেষে অনেকেরই মাথা ধরে যায়। ভাল খবর হল, বিজ্ঞানসম্মত কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত মানলে মিনিটের মধ্যেই আরাম পাওয়া সম্ভব (tension headache relief hacks)।
রইল এমনই ৯টি দ্রুত কাজের হ্যাক, যেগুলো ধারাবাহিক ভাবে মানলে টেনশন হেডেক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
টেনশন হেডেক কমানোর ৯টি দ্রুত হ্যাক
১. শরীরকে হাইড্রেট করুন
টেনশনের মাথাব্যথার অন্যতম বড় কারণ শরীরে জলের ঘাটতি। কারেন্ট পেইন এবং হেডেক রিপোর্টস (Current Pain and Headache Reports) জানাচ্ছে, ডিহাইড্রেশন প্রাইমারি হেডেক শুরু হওয়ার একটি স্বীকৃত 'ট্রিগার'।
আর BMJ Nutrition, Prevention and Health–এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সারাদিনে জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মাথাব্যথার মাত্রা ও তীব্রতা - দুটোই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে।
টিপস:
২. ঘাড় ও কাঁধ স্ট্রেচ করুন
ঘাড় আর কাঁধের পেশিতে টান লাগা শুরু টেনশন হেডেক বেড়ে যায়। Frontiers in Neurology অনুযায়ী, নিয়মিত নেক ও শোল্ডার স্ট্রেচিং পেশির স্টিফনেস কমায় এবং সার্ভাইক্যাল স্পাইনে চাপ কমাতে সাহায্য করে।
টিপস:
ডান হাত মাথার পিছনে নিয়ে হালকা টান দিন - পেশির টান কমবে হবে একই ভাবে বাঁ হাত দিয়ে করুন -ঘাড় ও কাঁধের চাপ হালকা লাগবে।
৩. কপালে ঠান্ডা সেঁক
The Journal of Head and Face Pain জানাচ্ছে, কপালে ঠান্ডা সেঁক মাথাব্যথা কমাতে কার্যকর। এমনকী মাইগ্রেনের শুরুতেও কোল্ড কমপ্রেস উপকারী হতে পারে।
টিপস:
ভাল করে সিল করা আইস প্যাক ব্যবহার করুন অথবা বরফ কাপড়ে জড়িয়ে কপালে রাখুন। মনে রাখবেন - কখনওই সরাসরি বরফ কপালে লাগাবেন না, মাঝে কাপড় থাকা জরুরি।
৪. মাইন্ডফুল ব্রিদিং (প্রাণায়াম)
ধীরে শ্বাস নেওয়া–ছাড়ার অভ্যাস স্ট্রেস কমায়, পেশির চাপ কমায় এবং ঘনঘন মাথাব্যথাতে ভোগার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। International Journal of Yoga, Physiotherapy and Physical Education–এর রিপোর্ট বলছে, যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন স্ট্রেসজনিত মাথাব্যথা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমায়।
টিপস:
শান্ত পরিবেশ বেছে নিন। সেখানে বসে ধীরে শ্বাস নিন, ধীরে ছাড়ুন - মন অন্য চিন্তা থেকে সরান। দিনে একাধিক বার কয়েক মিনিট করলেই উপকার মিলবে
৫. কপালের পাশে তেল মালিশ
মাথার দুই পাশের সমতল জায়গা (যাকে টেম্পল বলে) রিল্যাক্সেশনের চাবিকাঠি। কিছু প্রমাণিত গবেষণা জানাচ্ছে, পেপারমিন্ট অয়েল দিয়ে টেম্পলে মালিশ টেনশন হেডেকের ক্ষেত্রে কার্যকর নন-ড্রাগ থেরাপি।
টিপস:
৬. স্ক্রিন ব্রেক নিন (20-20-20 রুল)
একটানা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে টেনশন হেডেক বেড়ে যায়। International Journal of Clinical Studies and Medical Case Reports বলছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও ব্লু লাইট এক্সপোজার এই সমস্যার বড় কারণ।
টিপস:
৭. উষ্ণ হার্বাল চা
ক্যামোমাইল, আদা বা পেপারমিন্ট চা - এই উপাদানগুলো একসঙ্গে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, মাসল রিল্যাক্স্যান্ট ও স্ট্রেস রিডিউসার হিসেবে কাজ করে। কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন নিয়ে হওয়া এক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, এই হার্বাল উপাদানগুলো টেনশন হেডেকে উপকারী।
টিপস:
৮. বসা বা শোয়ার ভঙ্গি ঠিক করুন
কাজ, পড়াশোনা কিংবা সোফায় বসে মোবাইল স্ক্রল - ভুল শারীরিক ভঙ্গিই টেনশন হেডেকের বড় কারণ। Journal of Clinical Medicine জানাচ্ছে, শারীরিক ভঙ্গি ঠিক না থাকলে মাথাব্যথার তীব্রতা বাড়ে।
টিপস:
৯. পাওয়ার ন্যাপ বা মেডিটেশন
Journal of Headache and Pain অনুযায়ী, ২০–৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ বা নিয়মিত মেডিটেশন টেনশন হেডেক কমাতে দারুণ কার্যকর।
টিপস:
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
এই হ্যাকগুলো কাজে লাগলেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিচের লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন -
টেনশন হেডেক যে কোনও সময় শুরু হতে পারে। বিজ্ঞানসম্মত এই ছোট অভ্যাসগুলো উপকার দেয় ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘদিন ভুগতে থাকাটা কখনওই ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখুন।