পেসমেকার বসানো হলেও ৯০-এর দশকের সেই যন্ত্র নতুন সমস্যাও তৈরি করে। অ্যাঞ্জেলিকির মাইক্রোওভেন ব্যবহার করায় বারণ ছিল, ছোট ঘরে বেশিক্ষণ থাকতে পারতেন না, ব্যাটারি বদলাতে হত বার বার।

আঞ্জেলিকি আসিমাকি
শেষ আপডেট: 1 March 2026 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪৫ বছরের আঞ্জেলিকি আসিমাকি (Angeliki Asimaki story), লন্ডনের বাসিন্দা পেশায় একজন কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ। এখন সুস্থভাবে দিন কাটাচ্ছেন কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে পৌঁছনোর পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। জন্মগত হার্টের সমস্যায় ভুগেছেন অ্যাঞ্জেলিকি, এর কারণে মাঝে মাঝেই হার্টবিট বন্ধ হয়ে যেত। যা একসময়ে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
অ্যাঞ্জেলিকি প্রথম হার্টের (Heart) সমস্যা বুঝতে শুরু করেন ২৫ বছর বয়সে। মাথা ঘোরা, হালকা মাথা ব্যথা, দিনের বেশ কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া- ধীরে ধীরে লক্ষণগুলি তীব্র হতে থাকে। পরিবারের কারও হার্টের সমস্যার ইতিহাস না থাকায় কেউই পরিষ্কার কিছু বুঝতে পারছিলেন না।
ব্রেন, রক্ত, সুগার, থাইরয়েডের মতো শারীরিক পরীক্ষা করাতে থাকে। শেষে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর হার্টবিট (Heartbeat) মিনিটে ১২০ বারের বেশি হলেই সেটি ১৪ সেকেন্ডের (heart stopped 14 seconds) জন্য পুরোপুরি থেমে যায়।
নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর Intermittent Complete AV block রোগ ধরা পড়ে। এই রোগে হার্টের ওপরের চেম্বার থেকে নীচের চেম্বারে কোনও ইলেকট্রিক সিগন্যাল পৌঁছয় না। বাঁচাতে হলে লাগবে পেসমেকার।
অ্যাঞ্জেলিকি বলেন, “ডায়াগনোসিসের পর মনে হয়েছিল আমার জীবন শেষ। এতবার অজ্ঞান হওয়ায় একা ঘর থেকে বাথরুমেও যেতে পারতাম না।”
পেসমেকার বসানো হলেও ৯০-এর দশকের সেই যন্ত্র নতুন সমস্যাও তৈরি করে। অ্যাঞ্জেলিকির মাইক্রোওভেন ব্যবহার করায় বারণ ছিল, ছোট ঘরে বেশিক্ষণ থাকতে পারতেন না, ব্যাটারি বদলাতে হত বার বার। কয়েকদিনের মধ্যে আরও বড় বিপদ হয়! একদিন মস্তিষ্কের একটি রক্তনালী ফেটে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি।
মেডিক্যাল পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর হার্টে একটি বড় ছিদ্র রয়েছে। তা সারাতে করতে হয় ওপেন-হার্ট সার্জারি (open heart surgery survivor)। বছরের পর বছর ধরে তাঁকে পাঁচটি পেসমেকার (pacemaker surgery) রিপ্লেসমেন্ট, তিনটি অ্যাব্লেশন এবং একটি ওপেন-হার্ট সার্জারি- মোট ৯ বার অপারেশন করাতে হয়েছে।
এত কষ্টের মধ্যেও হার মানেননি অ্যাঞ্জেলিকি। লন্ডনে কার্ডিওমায়োপ্যাথি নিয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে Harvard University-এ ইন্টার্নশিপ করে সেখানেই ১১ বছর কাজ করেন।
সবচেয়ে বড় সাফল্য, তিনি এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন যাতে কেবল বাড়িতে নেওয়া চিক-সোয়াব দিয়ে অ্যারিথমোজেনিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি (ACM) নির্ণয় করা যায়। এতে বিপজ্জনক হার্ট বায়োপসির প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।
আজ তাঁর দুই সন্তান, যাদের জন্মও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এখন তারা সম্পূর্ণ সুস্থ। অ্যাঞ্জেলিকির কথায়, “আমি থামছি না। আরও রোগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চাই। আমরা এগোচ্ছি।”
এটাই তাঁর জয়- শরীরের সঙ্গে লড়াই করে, বিজ্ঞানকে হাতিয়ার করে এগিয়ে চলার লড়াই।