Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শিশুদের বিপদ বাড়াচ্ছে আল্ট্রা প্রসেসড ফুড, দ্য ল্যানসেটের সিরিজের চোখ খুলে দেওয়ার মতো তথ্য

ছোট বয়সেই স্বাদের পছন্দ গড়ে ওঠে। সেই পছন্দে যখন বারবার মেশে অতিরিক্ত মিষ্টি, নোনতা ও কৃত্রিম স্বাদের খাবার, তখন সারা জীবনের খাদ্যাভ্যাসই ইউপিএফ নির্ভর হয়ে পড়ে। শিশু ও কিশোর বয়স দ্রুত বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের সময়, ফলে নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাসের ক্ষতি বহু গুণ বেশি। UNICEF–এর ২০২৫ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউপিএফ শিশুদের অপুষ্টি, বিপাকীয় পরিবর্তন, স্থূলতা থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গেও যুক্ত।

শিশুদের বিপদ বাড়াচ্ছে আল্ট্রা প্রসেসড ফুড, দ্য ল্যানসেটের সিরিজের চোখ খুলে দেওয়ার মতো তথ্য

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 24 November 2025 12:47

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড বা ইউপিএফ (Ultra-Processed Foods) শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠছে। দ্য ল্যানসেট–এর (The Lancet- thelancet.com) সাম্প্রতিক সিরিজে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, ইউপিএফের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে এখনও কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ না নেওয়াই এই সংকটকে আরও গভীর করছে।

শিশুরা কেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
ল্যানসেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—
ছোট বয়সেই স্বাদের পছন্দ গড়ে ওঠে। সেই পছন্দে যখন বারবার মেশে অতিরিক্ত মিষ্টি, নোনতা ও কৃত্রিম স্বাদের খাবার, তখন সারা জীবনের খাদ্যাভ্যাসই ইউপিএফ নির্ভর হয়ে পড়ে। শিশু ও কিশোর বয়স দ্রুত বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের সময়, ফলে নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাসের ক্ষতি বহু গুণ বেশি। UNICEF–এর ২০২৫ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউপিএফ শিশুদের অপুষ্টি, বিপাকীয় পরিবর্তন, স্থূলতা থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গেও যুক্ত।

স্কুল, খেলার মাঠ, অনলাইন— চারপাশেই আল্ট্রা প্রসেসড ফুডের দাপট
ল্যানসেট জানাচ্ছে, শিশুদের দৈনন্দিন পরিবেশই এখন ইউপিএফে ভরা—স্কুল, ডে-কেয়ার সেন্টার, ক্লাব, খেলার মাঠ— সর্বত্র চিপস, কোল্ড-ড্রিংকস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস সহজলভ্য।
 

স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপনের জোরে এগুলিকে শিশুদের কাছে "স্বাভাবিক" খাদ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।ডিজিটাল মার্কেটিং-এ (Digital Marketing) অ্যালগরিদম শিশুদের বয়স, পছন্দ, ব্রাউজিং আচরণ দেখে নির্দিষ্টভাবে তাদের টার্গেট করছে। অর্থাৎ ছোটরা সোশাল মিডিয়া খুললেই এই সব খাবারের প্রলোভন ও হাতছানি দেখা যাচ্ছে। অভিভাবকরা তা সব সময়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ইনফ্লুয়েন্সার ভিডিও, গেমিং ইন্টিগ্রেশন— সবকিছুতেই খাবারের বিজ্ঞাপন লুকিয়ে থাকে, যা শিশুদের মনে প্রভাব ফেলার মতো কাজ করে।

ভারতে আল্ট্রা প্রসেসড ফুডের এখন রমরমা চলছে। ২০০৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতীয় বাজারে আল্ট্রা প্রসেসড ফুডের  বিক্রি প্রায় ৪০ গুণ বেড়ে গেছে। শিশু ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য ব্যতিক্রমীভাবে লোভনীয় প্যাকেজিং ও কম দামের (৫-১০ টাকা) স্ট্র্যাটেজি চালু রয়েছে। অর্থাৎ ১০ টাকার পাউচ বা ৫ টাকার পাউচ। দাম কম, এবং আকর্ষণীয় প্যাকেজিং—সেই ফাঁদের পড়েই শিশুরা আল্ট্রা প্রসেসড ফুডের দিকে ঝুঁকছে। অথচ ফ্যাট, সুগার ও সল্টের উচ্চমাত্রাসহ, রঙ, স্বাদ বাড়ানোর উপাদান এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তি যুক্ত এই খাবারগুলোর সঙ্গে স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অকাল মৃত্যুর সম্পর্কীয় গবেষণা ইতিমধ্যে রয়েছে।

নীতিগত অবস্খান নেওয়ার বিলম্ব ঝুঁকি বাড়াচ্ছে 
ল্যানসেট স্পষ্ট সতর্ক করেছে— “আরও গবেষণা লাগবে” এমন অজুহাতে সরকারি পদক্ষেপ স্থগিত রাখা উচিত নয়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মেক্সিকো-সহ বহু দেশে আইন করে শিশুদের উদ্দেশে খাদ্য বিপণন বন্ধ করেছে। ফ্রন্ট–অফ–প্যাক সতর্কীকরণ লেবেল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্ষতিকর খাদ্যে কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে ইউপিএফ কেনা ও খাওয়ার হার কমাতে সাফল্য পেয়েছে।

খাদ্যশিল্পের প্রভাবই সবচেয়ে বড় বাধা
UNICEF–এর ২৪ দেশের সমীক্ষায় ৭০% সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন—
খাদ্যশিল্পের চাপ শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে। ল্যানসেট জানিয়েছে, শিল্প সংস্থাগুলিও এখন কৌশলগত ভাবে গবেষণা স্পনসর করছে, আইনগত হুমকি দিচ্ছে, জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, চাকরি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির যুক্তি দেখিয়ে সরাকারি নীতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিশুদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ল্যানসেট বলছে, খাদ্যশিল্প যখন বাজারে বিপুল মাত্রায় ইউপিএফ ঢেলে দিচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করা বাধ্যতামূলক। UNICEF, WHO এবং অন্যান্য UN সংস্থাগুলি যৌথভাবে—ইউপিএফের স্পষ্ট সংজ্ঞা,আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বাধ্যতামূলক আইন,শিশুদের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে সদস্য দেশগুলিকে সাহায্য করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
তথ্য সূত্র: The Lancet


```