পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ক্যানসার চিকিৎসায় নয়া দিশা দেখাল হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতাল। বিশ্বের সেরা ও ভারতের প্রথম এমআর লিনাক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েকদিনেই সম্ভব হচ্ছে জটিল ক্যানসার সারানো।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 20 September 2025 19:58
ক্যানসার হ্যাস নো আনসার, এই কথা এখন অতীত! আধুনিক প্রযুক্তি প্রমাণ করছে ক্যানসার সারানো সম্ভব, তাও কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া। ক্যানসার মানেই দীর্ঘ রেডিয়েশন থেরাপি, অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির চাপ। রেডিয়েশনে সুস্থ কোষও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি আর আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগমন, পাল্টে দিয়েছে সেই ধারণা। এই নিয়েই বর্ষণমুখর দিনে কলকাতা প্রেস ক্লাবে আলোচনা করলেন হায়দরাবাদের বিখ্যাত চিকিৎসক (অনকোলজিস্ট) ডাঃ প্রদীপ কুমার কারুমাঞ্চি।
তিনি বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সঙ্গে। এই হাসপাতালই ক্যানসার চিকিৎসায় এনেছে আমূল পরিবর্তন। তিন বছর আগে তাঁদের হায়দরাবাদের বিভিন্ন শাখায় শুরু হয়েছে বিশ্বের সেরা ও ভারতের প্রথম এমআর লিনাক। এর মাধ্যমে ক্যানসার চিকিৎসায় এসেছে বিপ্লব। ইতিমধ্যেই শত শত জটিল ক্যানসার রোগী সুস্থ হয়েছেন চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।
এমআর লিনাক বললে কারও পক্ষে কিছু বোঝা সম্ভব নয়। এটা প্রচলিত কোনও টার্ম বা কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি নয় এদেশে। ভারতের বাইরে বিশেষ করে যেসব দেশ চিকিৎসায় উন্নত, সেখানে এই শব্দবন্ধ সম্পর্কে অনেকেই অবহিত। এটি একটি রেডিয়েশনের যন্ত্র। ব়্যাপিড স্ক্যান করে রেডিয়েশন করতে পারে দ্রুত। তাতে ক্যানসার কোষ নষ্ট হতে পারে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে কয়েকগুন বেশি মানে। এমআর লিনাক এমন সব টিউমারের চিকিৎসা করতে পারে যা একসময় অসম্ভব বলে মনে হত। অগ্ন্যাশয়, লিভার, ইসোফেগাস, ফুসফুসের মতো কঠিন ক্যানসার সারাতেও কার্যকর এই প্রযুক্তি।
যেখানে প্রচলিত রেডিয়েশন সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলে, সেখানে এমআর লিনাক মাত্র পাঁচটি সেশনে চিকিৎসা শেষ করে। এটি অস্ত্রোপচারবিহীন, ব্যথাহীন ও আউটপেশেন্ট প্রক্রিয়া।
নিরাপদ, সকল বয়সের জন্য কার্যকর
নির্ভুল লক্ষ্য স্থাপন ও এমআরআই গাইডেড রেডিয়েশনের মাধ্যমে ভাল টিস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সুরক্ষিত থাকে। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রায় হয় না। বয়স্ক ও দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রেও এর সাফল্য অনেকাংশে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
এআই-ভিত্তিক পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
কেন এটি ক্যানসার চিকিৎসা বিপ্লব আনতে পারে?
চিকিৎসার সময় এমআর লিনাক টিউমারকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে এবং শরীরের প্রাকৃতিক গতিবিধি অনুযায়ী নিজেকে সমন্বয় করে। এর ফলে নির্ভুলভাবে ক্যানসার কোষ বা টিউমার নষ্ট করা সম্ভব হয়।
ডাঃ প্রদীপ করুমাঞ্চি জানান, এমআর লিনাক শুধু নির্ভুল চিকিৎসা করে ও নিরাপত্তা বাড়ায় এমন নয়, সেইসব রোগীদেরও নতুনভাবে বাঁচার আশা জোগায়, যাদের চিকিৎসা একসময় অসম্ভব বলে ধরা হত। আজকাল ফাস্ট লাইফ, কারও হাতে সময় নেই। মাসের পর মাস চিকিৎসা চললে চাকরি-সংসার-পরিবারের কী হবে! সেকথা মাথায় রেখেই এমআর লিনাক দ্বারা মাত্র তিন সপ্তাহেও ক্যানসার দূরীকরণ সম্ভব হয়েছে।
এই চিকিৎসায় কি ক্যানসার বার বার ফিরে আসতে পারে? বেশ কিছু উদাহরণ টেনে চিকিৎসক স্পষ্ট জানান, সম্ভাবনা কম। এক্ষেত্রে যশোদা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা এমন অনেকের ক্ষেত্রে তিনি দেখেছেন এখনও পর্যন্ত ক্যানসার কোষ ফিরে আসেনি। খরচাও সাধ্যের মধ্যে।
দক্ষিণ ভারতের যশোদা হাসপাতালের চিকিৎসক এই আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা পদ্ধতি সর্বোপরি যন্ত্র নিয়ে খুবই উচ্চাকাঙ্খী। তিনি মনে করেন, মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছলে এটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। মৃত্যুর হার কমতে পারে অনেকটা।
কিন্তু চিকিৎসক উল্লেখ করেন, এক্ষেত্রে কোনও উপসর্গ থাকলে বা অযাচিত শারীরিক পরিবর্তন হলে আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। ক্যানসার ট্রিটমেন্টের কথা শুনলেই মধ্যবিত্তরা ভয় পান, অনেকে চিকিৎসকের কাছেই যান না। এতে প্রাণটা চলে যায়। আজ ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে এমন পদক্ষেপ কাম্য নয়। ফলে বার বার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।