অনেক সময় ‘প্রেগন্যান্সি গ্লো’-এর বদলে ত্বক হয়ে ওঠে অতিসংবেদনশীল, বারবার ব্রণ দেখা দেয় এবং আগের মতো সহজে সামলানোও যায় না।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেগন্যান্সি অনেকের কাছেই এক বিশেষ এবং সুন্দর অভিজ্ঞতা। কিন্তু মাতৃত্বের এই জার্নিতে শরীরে হঠাৎ করে অনেক রকম পরিবর্তন দেখা দেয়। তাঁর পাশাপাশি ত্বকেও দেখা দেয় নানা পরিবর্তন (skin changes during pregnancy), বিশেষ করে ব্রণ বা অ্যাকনে (pregnancy acne)।
এই ক্ষেত্রে অনেক মহিলাই অস্বস্তি বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভোগেন। যেটাকে আমরা ‘প্রেগন্যান্সি গ্লো’ (pregnancy glow) বলে ভাবি, অনেক সময় তার বদলে ত্বক হয়ে ওঠে অতিসংবেদনশীল, বারবার ব্রণ দেখা দেয় এবং আগের মতো সহজে সামলানোও যায় না।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেগন্যান্সিতে এই ধরনের ত্বকের সমস্যা খুবই স্বাভাবিক। শরীরের অন্দরে চলতে থাকা তীব্র হরমোনাল পরিবর্তন এবং ত্বকের বাড়তি সংবেদনশীলতার কারণেই এমনটা হয়। এই পরিবর্তনগুলি এক দিনে থামে না, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়।
এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডা. কুণাল সুদ, যিনি একজন অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট এবং ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন ফিজিশিয়ান। ১২ ডিসেম্বর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি প্রেগন্যান্সিতে ব্রণ ও ত্বকের পরিবর্তনের কারণ এবং তা থেকে সুরক্ষার উপায় (pregnancy skincare tips) তুলে ধরেছেন।
প্রেগন্যান্সিতে ব্রণ কেন হয়?
ডা. সুদের মতে, গর্ভাবস্থায় ত্বকের পরিবর্তন অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। এই সময় ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং ব্রণই সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ।
তিনি বলেন, “এই সময় হরমোনের মাত্রা বদলে যাওয়ার ফলে ত্বকের তেলগ্রন্থি বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে রোমকূপ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে যদি জেনেটিক প্রবণতা, আগে থেকেই ব্রণের ইতিহাস, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা রোমকূপ বন্ধ করে এমন প্রসাধনী ব্যবহার যুক্ত হয়, তাহলে ব্রণ আরও স্পষ্টভাবে দেখা দেয়।”
কীভাবে ত্বককে সুরক্ষিত রাখবেন?
ডা. সুদ জোর দিয়ে বলেন, গর্ভাবস্থায় ত্বক যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে, তাই প্রতিরোধের শুরুটাই হওয়া উচিত কোমল অভ্যাস দিয়ে।
তাঁর পরামর্শ, “মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন এবং হার্শ স্ক্রাব বা অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন এড়িয়ে চলুন। কিছু টপিক্যাল চিকিৎসা, যেমন ক্লিনডামাইসিন, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিরাপদ উপায় হতে পারে। তবে রেটিনয়েড, উচ্চমাত্রার স্যালিসিলিক অ্যাসিড এবং ওষুধ গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন।”
তিনি আরও জানান, যদি ব্রণ খুব বেশি ব্যথাযুক্ত হয়, দীর্ঘদিন না সারে বা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসক বা ডার্মাটোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
ডা. সুদের কথায়, “এমন অনেক নিরাপদ চিকিৎসার উপায় রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং মা ও গর্ভস্থ সন্তানের জন্য নিরাপদ।”
সবশেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সমস্যার জন্য নিজেকে দোষী ভাবার কোনও কারণ নেই। “এটা আপনার কোনও ভুল নয়। আপনার ত্বক কেবল শরীরের ভিতরে চলতে থাকা বাস্তব শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলিকে স্বাভাবিক হতে একটু সময় লাগবেই।”
বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।