টিনএজার বা কিশোরীদের ক্ষেত্রে এর উপসর্গগুলোকে প্রায়শই স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সমস্যা বাড়তে বাড়তে গুরুতর হয়ে ওঠে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 15:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যা সাধারণত প্রজনন বয়সের মহিলাদের প্রভাবিত করে। কিন্তু টিনএজার বা কিশোরীদের ক্ষেত্রে এর উপসর্গগুলোকে প্রায়শই স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন (teenage hormonal) changes) ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সমস্যা বাড়তে বাড়তে গুরুতর হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব জুড়ে পিসিওএস সচেতনতা মাস (PCOS awareness month) পালন করা হয় এই সেপ্টেম্বর (September)। পিসিওএসকে সাধারণত লাইফস্টাইল ডিজিজ (lifestyle disease) হিসেবেই ধরা হয়। ডিজিটাল যুগের এই ব্যস্ততা, ইঁদুরদৌড়ের জীবনযাত্রাকেই মূলত দায়ী করা হয় এর জন্য। বাড়তে থাকা এই সমস্যায় মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বিশেষ প্রয়োজন। আর তার শুরুটা হতে হবে টিনএজেই।
গুরুগ্রামের সি কে বিরলা হাসপাতালের অবস্টেট্রিক্স ও গাইনোকোলজির ডিরেক্টর ডাঃ অরুণা কালরা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই দেরিতে চিহ্নিতকরণ ভবিষ্যতের প্রজনন ক্ষমতা থেকে শুরু করে মেটাবলিজম সম্পর্কিত সুস্থতা পর্যন্ত নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
তিনি কিশোরীদের মধ্যে পিসিওএসের এমন পাঁচটি উপসর্গের কথা উল্লেখ করেছেন, যা লক্ষ্য করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
১) শুরুর প্রথম কয়েক বছরের পরও অনিয়মিত পিরিয়ড
প্রথম পিরিয়ড শুরু হওয়ার পরের ১–২ বছর পর্যন্ত সাইকেল অনিয়মিত হওয়া স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা হয়। কিন্তু এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যদি পিরিয়ড খুব অনিয়মিত হয়, খুব কম হয় বা একেবারেই না হয়, তা পিসিওএসের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক বাবা-মা বিষয়টিকে স্ট্রেস বা খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা ভেবে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন।
২) মারাত্মক ব্রন, সাধারণ চিকিৎসাতেও না কমা
পিসিওএসের কারণে তৈরি হওয়া হরমোনজনিত ব্রন সাধারণ কিশোর বয়সের ব্রনর থেকে আলাদা। মুখের নীচের অংশ, চোয়ালের চারপাশ বা বুকে স্থায়ীভাবে ব্রন হতে থাকলে, তাতে ইনফ্লেমশন থাকলে এবং সাধারণ চিকিৎসায় সাড়া না দিলে, তা অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষদের শরীরে থাকা এক হরমোন) নিঃসরণের লক্ষণ হতে পারে।
৩) অতিরিক্ত লোম গজানো বা হঠাৎ চুল পড়ে যাওয়া
চিবুক, উপরের ঠোঁট, বুক বা পেটের মতো জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত লোম গজানো মানেই তা স্পষ্ট হরমোন ভারসাম্যহীনতার চিহ্ন। অনেকেই এটিকে শুধুই সৌন্দর্যগত সমস্যা মনে করেন। অন্যদিকে, মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, পুরুষদের ধাঁচে টাক পড়া - এগুলিও কিশোরীদের পিসিওএসের সতর্ক সংকেত।
৪) দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওজন কমাতে সমস্যা
পিসিওএস থাকা অনেক কিশোরী স্বাভাবিক খাবার ও শারীরিক কসরতের পরও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। এর পিছনে থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা এই সমস্যার অন্যতম কারণ। বাবা-মা বিষয়টিকে জীবনযাত্রাজনিত সমস্যা ভেবে মূল হরমোনজনিত কারণটি নজরে আনতে পারেন না।
৫) মুড সুইংস ও আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
পিসিওএসে আক্রান্ত কিশোরীরা অনেক সময় মুডের ওঠানামা, উদ্বেগ বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভোগেন। ব্রণ বা অতিরিক্ত লোমের মতো দৃশ্যমান উপসর্গগুলির কারণে মানসিক চাপও বাড়ে। পরিবারের সদস্যরা সচরাচর এসব মানসিক লক্ষণকে পিসিওএসের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন না।
ডাঃ কালরার পরামর্শ, কিশোরীদের মধ্যে যদি এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, অবহেলা না করে দ্রুত গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা পেলে শুধু পিরিয়ড স্বাভাবিক হবে তাই নয়, ভবিষ্যতের হরমোন ও প্রজনন সংক্রান্ত জটিলতাও এড়ানো সম্ভব।