প্রেগন্যান্সি মেয়েদের জন্য খুব সহজ নয় তবে প্রতিটি ট্রাইমেস্টারে হবু বাবার উপস্থিতি মায়ের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রেগন্যান্সির সময়ে হবু বাবাদের কী কী করণীয়?
শেষ আপডেট: 17 May 2025 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেগন্যান্সিকে (pregnancy) এখনও আমরা সাধারণত মায়ের নিজস্ব এক যাত্রা হিসেবেই দেখি। বাস্তবে এই সময়ে হবু মায়েদের জন্য তাঁদের সন্তানের বাবা (would be father) অর্থাৎ পুরুষ সঙ্গীর (male partner) ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। হবু মা গোটা প্রেগন্যান্সি জুড়ে নানারকম শারীরিক পরিবর্তনের (physical changes) মধ্যে দিয়ে যান। তাঁর মানসিক স্থিতি এবং ভাল থাকার অনেকটাই নির্ভর করে তাঁর সঙ্গীর উপরে।
প্রেগন্যান্সিতে হবু বাবার পাশে থাকা নিছক সহানুভূতির প্রকাশ নয়, বরং তা মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যে, শিশুর সুস্থতায় এবং বাবা-মা-সন্তানের বৃত্তের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারের সাপোর্ট?
গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। বমিভাব, ক্লান্তি, ওজন বাড়া, হরমোনের ওঠানামা- তার সঙ্গে বাড়ে আবেগ-অনুভূতি, ডেলিভারি নিয়ে দুশ্চিন্তা, নতুন দায়িত্বের চাপ। এই সময় সঙ্গী পাশে থাকলে-
• প্রেগন্যান্সি চলাকালীন উদ্বেগ বা ডিপ্রেশনের সম্ভাবনা কমে
• নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা সহজ হয়
• ডেলিভারি ও মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি সহজ হয়
• মা হিসেবে আত্মবিশ্বাস বাড়ে
প্রেগন্যান্সিতে গোটা সময়কালকে তিনটি ট্রাইমেস্টারে (trimester) ভাগ করা হয়। তিন মাস করে ধরা হয় প্রতি ট্রাইমেস্টার।
প্রতি তিন মাসে হবু বাবা (would be father) কী কী দায়িত্ব নিতে পারেন?
প্রথম ট্রাইমেস্টার (first trimester): শোনা ও শেখা
প্রথম কয়েক সপ্তাহ অনেকের জন্যই বিভ্রান্তিকর। সঙ্গী হিসেবে এই সময় সবচেয়ে জরুরি কাজ হল- শেখা ও হবু মায়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।
কী করণীয়:
• গর্ভাবস্থা নিয়ে পড়ুন, ডাক্তারের কাছে যান। যা যা জিজ্ঞাসা করার কথা মনে হচ্ছে, নির্দ্বিধায় সেই সব নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
• সমাধান দেওয়ার আগে মন দিয়ে শুনুন, বিশেষ করে যখন মা ক্লান্ত বা আবেগপ্রবণ।
• একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিন। সন্তানের নাম, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলুন।
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার (second trimester): সম্পর্ক গড়া ও অভ্যাস তৈরি
এই সময়টিকে বলা হয় ‘হানিমুন ফেজ’। মায়ের শরীরে এনার্জি বাড়ে, বেবি বাম্প দেখা যায়।
কী করণীয়:
• ২০ সপ্তাহের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান মিস করবেন না।
• একসঙ্গে হাঁটুন, পুষ্টিকর খাবার রান্না করুন মায়ের জন্য, বিশ্রামে উৎসাহ দিন।
• গর্ভস্থ শিশুর সঙ্গে কথা বলুন। গবেষণায় প্রমাণিত যে এই সময় তারা গলার আওয়াজ শুনলে চিনতে পারে।
• একসঙ্গে শিশুর থাকার জায়গা তৈরি করুন, জামাকাপড়-ফার্নিচার কিনুন। এতে বন্ডিং মজবুত হয়।
তৃতীয় ট্রাইমেস্টার (third trimester): প্রস্তুতি আর সহমর্মিতা
ডেলিভারির সময় যত কাছে আসে, মায়ের শরীরে বাড়ে অস্বস্তি ও মানসিক চাপ। এই সময় সঙ্গীর সহনশীলতা ও যত্ন খুবই জরুরি।
কী করণীয়:
• দৈনন্দিন কাজকর্মে সাহায্য করুন- নড়তে, ভারী কিছু তুলতে, হাঁটতে কষ্ট হয় তখন।
• ডেলিভারি পরিকল্পনা করুন—ব্যথা সামলাবেন কীভাবে, কে পাশে থাকবে এসব নিয়ে আলোচনা করুন।
• ডেলিভারির পর কীভাবে সাহায্য করবেন তা শিখুন।
• ধৈর্য ধরুন, আবেগ সামলাতে সাহায্য করুন, ঘন ঘন বিশ্রামে উৎসাহ দিন।
প্রেগন্যান্সি মেয়েদের জন্য খুব সহজ নয় তবে প্রতিটি ট্রাইমেস্টারে হবু বাবার পাশে থাকা, তার ছোট ছোট পদক্ষেপ ও মানসিক উপস্থিতি মায়ের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর বিভিন্নভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।